দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। রোববার ৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আবেদনটি উপস্থাপন করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান। এতে ১০৩ জনকে গুম ও হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়। এসব ঘটনার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়। পরে একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন প্রসিকিউশন।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শাইখ মাহদী ও সহিদুল ইসলাম সরদার উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জিয়াউল আহসানের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি প্রসিকিউশনের কাছে ভিডিও প্রমাণ চেয়ে আবেদন করেন। প্রসিকিউশন জানায়, ট্রাইব্যুনালে দাখিলের পর ভিডিওগুলো তাকে দেওয়া হবে। সবকিছু পর্যালোচনা করে আসামির অব্যাহতির আবেদন করবেন বলেও জানান নাজনীন নাহার। এ বিষয়ে আগামী ৮ জানুয়ারি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে সকালে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। দুপুরের পর মামলার শুনানি শুরু হয়।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এমএস/