দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রংপুর বিভাগের সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।
সারাদেশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ চেয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত রুল জারি করে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে উক্ত নির্দেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় আদালত রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে আদালতের আদেশ মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেন।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করে উল্লেখ করেন যে, রংপুর বিভাগে ৮১২টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুসারে ১৮টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি জে. বি. এম. হাসান এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের আদালতে মামলাটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে রিটকারির পক্ষের আইনজীবী সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক ১৫৫টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ১টি ইটভাটাও বন্ধ করেননি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ৮৬টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৭টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করেছেন, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ১৭৫টি অবৈধ ইটভাটের মধ্যে ১০টি বন্ধ করেছেন, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ২৪টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ১টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করেছেন।
তিনি শুনানিতে বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের রিপোর্ট অনুসারে ৮১২টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৮টি ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। যা আদালতের নির্দেশনা অমান্যের সামিল। সেই প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করায় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
শুনানি শেষে আদালত রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়নের ব্যর্থতার কারণ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, বিভাগীয় কমিশনার আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। আদালত অপর এক আদেশে, দুই সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিট মামলায় আবেদনকারী হলেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী ছারওয়ারা আহাদ চৌধুরী, আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া ও আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। অপরদিকে বিবাদীরা হলেন, সচিব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সচিব পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়, সচিব জণপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সকল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনেরসহ মোট ২১ জন।
আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে মামলাটি শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সেলিম রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এএজি কালিপদ মৃধা।
কে