দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাটোরের গুরুদাসপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রিনা খাতুনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রনি মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রনি মোল্লা গুরুদাসপুর উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামের হাবিল মোল্লার ছেলে।
নাটোর জজ আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান জানান, ২০১২ সালে গুরুদাসপুরের পুরুলিয়া গ্রামের হাবিল মোল্লার ছেলে রনি মোল্লার সঙ্গে বিয়ে হয় নাটোর সদর উপজেলার শিবদুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের মেয়ে রিনা খাতুনের।
বিয়ের পর থেকে রিনাকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিষয়টি রিনা খাতুন তার বাবাকে জানালে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এক লাখ টাকা দেয় রনিকে। এরপর আবার টাকা দাবি করে নির্যাতন করতে থাকে। এরপর আরও দুই তিনবার টাকা ও গহনা দেয় রিনার বাবা।
এভাবে চলার একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রিনার কাছে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মারধর করে। বিষয়টি জানিয়ে রিনা তার বাবাকে টাকা দিতে নিষেধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রনি মোল্লা।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিনাকে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করে এবং পিটিয়ে জখম করে। ঘটনাটি প্রতিবেশীরা দেখে রিনার বাবার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে রিনার বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রিনার বাবা মফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে রিনার স্বামী রনি মোল্লাসহ ৫ জনের নামে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ রনি মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান। পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলায় রনি মোল্লাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে এবং অন্যদের অব্যাহতি দেন।
দীর্ঘ ৫ বছর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক রনি মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। সেইসঙ্গে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ নিহতের বাবা ও মা পাবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি করেন।
জেবি/এম