দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে মো. রবিউল আউয়াল শিমুল (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে এদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের বশিকপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মাসুদুর রহমান ওরফে কালা মাসুদ (৩২), দিঘলী ইউনিয়নের উত্তর জামিরতলী গ্রামের নুর মোহাম্মদ লিটন (৩৮), গোবিন্দখিল গ্রামের মৃত ওমর ফারুকের ছেলে শাহরিয়ার রাশেদ ওরফে লন্ডনী রাশেদ (৩৩), চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে ইলিয়াছ (৩৫), পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের বেলালের ছেলে সাদ্দাম (৩১) ও একই এলাকার পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন সাদ্দাম ওরফে বিড়ি সাদ্দাম (৩১)। এরা সকলে জিসান বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিল।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম (৩১)।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন, ছয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ইলিয়াস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যান, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা রবিউল আউয়াল শিমুলকে তার নানারবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চন্দ্রগঞ্জের দেওপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পাশে গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় রবিউলের মামা কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু বাদী হয়ে ৫মে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দেয়। এতে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হয়ে আলাদতে নারাজি দেন বাদী। এরপর মামলাটি নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। তদন্তে সাতজন আসামিকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ৪ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআই নোয়াখালীর সে সময়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার উল ইসলাম৷
তদন্তে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুর সঙ্গে চন্দ্রগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবদল নেতা জিসানের বিরোধ ছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার রাতে জিসান বাহিনীর নেতৃত্বে অভিযুক্ত আসামিরা বাবলুর বাড়িতে সশস্ত্র আসে। এ সময় রবিউল তার মা পেয়ারা বেগমের সঙ্গে নানার ঘরে বসে নাস্তা করছিলেন। সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি টের পেয়ে রবিউল দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে তুলে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। পরে পিঠের মেরুদণ্ডে গুলি করে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
জেবি