দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার হোমনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে জজ মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার হোমনা সরদার বাড়ীর বাহাদুর মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া (৩৫)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ মে সন্ধ্যায় ভিকটিম জজ মিয়া বিদ্যুৎ না থাকায় ও প্রচণ্ড গরমের কারণে বাড়ির পাশে পৌর নতুন বাসস্ট্যান্ড খোলা মাঠে বসে মোবারক মিয়াসহ গল্প-গুজব করার সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা আকস্মিকভাবে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি-লাথি মারে। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে ঘাই মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দৌড়ে চলে যায়।
পরে সিএনজিচালক জামির ও দেলোয়ার ভিকটিম জজ মিয়াকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জজ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা নেওয়ার পথে জজ মিয়ার মৃত্যু হয়। তখন তার মরদেহ পুনরায় হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংবাদ পেয়ে হোমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ছুরির ভাঙা হাতলের অংশ, রক্তমাখা দুর্বাঘাস ও মাটি জব্দ করেন। এরপর মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতক্রমে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে পরদিন ২৩ মে মৃতের বড়ভাই কুমিল্লা হোমনা থানাধীন হোমনা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মো. জুলহাস (৪২) বাদী হয়ে একই উপজেলার হোমনা সরদার বাড়ীর বাহাদুর মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া (৩৫), সালা উদ্দিন (২৮) ও নাসির উদ্দিনসহ (২২) ৩-৪ জনকে আসামি করে হোমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাজী নাজমুল হক ২৮ মে আসামি আজাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন। এরপর ঘটনার তদন্তপূর্বক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর আসামি আজাদ মিয়া ও পলাতক আসামি সালাউদ্দিন এবং নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত ২০১৬ সালে ১৪ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জ গঠনক্রমে রাষ্ট্র পক্ষ ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামি আজাদ মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিধানমতে দোষী সাবস্ত্য করে আজাদ মিয়াকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
আদালত তার রায়ে, মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রুজ্জুতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করেন। অপর দুই আসামি সালা উদ্দিন (২৮) ও নাসির উদ্দিনের (২২) বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করেন।
রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজাদ মিয়াসহ অপর দুই আসামিও আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের বিজ্ঞ কৌঁসুলি অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আশা করছি মহামান্য হাইকোর্ট এ রায় বহাল রেখে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচ এম আবাদ বলেন, রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
এইউ