দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
শেখ ফজলে শামস পরশ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। তাই তার নির্বাচনী হলফনামা না থাকায় ঘোষিত সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়নি। অন্য চারজনের সম্পদের তথ্য ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা থেকে জানা যায়।
ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি হাতে নগদ ৮০ হাজার টাকা থাকার তথ্য দেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার।
কাদেরের একটি গাড়ির দাম দেখানো হয়েছিল ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা স্বর্ণের দাম তিনি দেখিয়েছিলেন দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাব থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে অংশ নেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ টাকা ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ। ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানিতে তার শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ছিল ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া তার ৬০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, প্রায় ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি এবং ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল। স্বর্ণের দাম তিনি দেখিয়েছিলেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম ও আসবাবের দাম দেখিয়েছিলেন সোয়া ১০ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে রয়েছে ১৫৩ শতাংশ অকৃষি জমি। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
ঢাকার উত্তরায় নাছিমের একটি ভবনের দাম দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ঢাকার মিরপুরে তার একটি ফ্ল্যাটের দাম ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে অংশ নেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হন।
হলফনামা অনুযায়ী, আরাফাতের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তার নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিজের নামে আরাফাতের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পদ
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষিজমির তথ্য রয়েছে। একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
নিখিলের তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিখিলের নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে।
তার তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নিখিলের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
এর আগে শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
/অ