দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী নিগার সুলতানা এবং শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে তাদের নামে মোট ৮ কোটি ৪ লাখের বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মামুন খালেদের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী নিগার সুলতানার নামে পাওয়া গেছে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার সম্পদ। আর শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের নামে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা যায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং নিজের, স্ত্রী, শ্যালকসহ পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়।
অনুসন্ধানে তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের হিসাবও যাচাই করা হয়। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তার নামে অর্জিত সম্পদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয়ের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এতে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই অনুসন্ধানে শেখ মামুন খালেদের স্ত্রী নিগার সুলতানার সম্পদের হিসাবও যাচাই করে দুদক। তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এবং গ্রহণযোগ্য আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।
দুদকের নথি অনুযায়ী, নিগার সুলতানার আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে যে আয় দেখানো হয়েছিল, তার একটি অংশ অনুসন্ধানে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার রেকর্ডপত্র যাচাই ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওই মৎস্য চাষের আয়কে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামুন খালেদের স্ত্রীর ২০২৩-২৪ করবর্ষে প্রদর্শিত আরও কিছু আয়ের বৈধ উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব আয় বাদ দিয়ে নিগার সুলতানার গ্রহণযোগ্য আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব করা হয়। এরপর তার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে শেখ মামুন খালেদের শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের নামে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ১২৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তার গ্রহণযোগ্য আয় হিসেবে ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৮ টাকা বিবেচনা করেছে দুদক।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে ৬ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ টাকা আয় দেখানো হয়েছিল। তবে দুদকের যাচাই ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওই আয়কে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে দেখানো ১ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে ওই অর্থ তার গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাবে ধরা হয়নি।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, শেখ আমিনুর রহমানের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ৬১৬ টাকা। সব হিসাব পর্যালোচনার পর তার নামে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধেও মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে তিনজনের বিরুদ্ধেই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। মামলাগুলোতে দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পালকে বাদী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এমএম/