দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নব্বইয়ের দশক মানেই ক্যাসেট, রঙিন টেলিভিশন, স্টুডিয়োতে ছবি তোলার আলাদা আয়োজন এবং ফিল্ম ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছুটা দানাদার ছবি। সেই সময়ের ফ্যাশন, চুলের ধরন ও ছবির রঙে ছিল আলাদা এক নস্টালজিয়া। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নিজের বর্তমান ছবিতেই ফিরিয়ে আনা যায় সেই সময়ের আবহ।
বিশেষ করে চ্যাটজিপিটিতে নিজের ছবি আপলোড করে ছবির ধরন, পোশাক, আলো, পটভূমি ও ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। শুধু ‘নব্বইয়ের দশকের ছবি বানিয়ে দিন’ বলার বদলে কী ধরনের পরিবর্তন চান, তা স্পষ্ট করে বলা হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও নির্দিষ্টভাবে কাজ করতে পারে।
নব্বইয়ের দশকের স্টুডিয়ো পোর্ট্রেট
নব্বইয়ের দশকে স্টুডিয়োতে তোলা পোর্ট্রেটের আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল। সাধারণ পটভূমি, স্টুডিয়োর আলো এবং ফিল্ম ক্যামেরার স্বাভাবিক দানাদার আবহে তোলা ছবিগুলো ছিল অনেকটাই সাদামাটা। নিজের ছবিতেও সেই আবহ আনতে চ্যাটজিপিটিকে এমন নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে—
‘আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত স্টুডিয়ো পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন, পরিচিতি, ত্বকের স্বাভাবিক রং ও অভিব্যক্তি যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাকে নব্বইয়ের দশকের উপযোগী ক্লাসিক চুলের ধরন ও পোশাক দিন। পেছনে সাধারণ স্টুডিয়ো পটভূমি এবং সেই সময়ের স্টুডিয়ো আলোর ব্যবহার করুন। ছবিতে বাস্তব ফিল্ম ক্যামেরার মতো হালকা অ্যানালগ গ্রেন, কিছুটা ফিকে রং ও সামান্য প্রাকৃতিক অসম্পূর্ণতা রাখুন। ছবিটি যেন আধুনিক ডিজিটাল ছবির মতো অতিরিক্ত পরিষ্কার বা ঝকঝকে না হয়।’
এ ধরনের নির্দেশে শুধু পুরোনো ফিল্টার যোগ করার বদলে পুরো দৃশ্যটিকেই নব্বইয়ের দশকের আবহে সাজানোর চেষ্টা করা যায়।
ছুটির দিনের ছবিতে নব্বইয়ের আমেজ
নব্বইয়ের দশকের পারিবারিক ছুটির ছবিরও ছিল আলাদা আকর্ষণ। নিখুঁত পোজের চেয়ে স্বাভাবিক মুহূর্তই বেশি ধরা পড়ত এসব ছবিতে। রোদেলা কোনো ভ্রমণস্থল, সাধারণ পোশাক, হাসিমুখ ও ফিল্ম ক্যামেরার হালকা রঙের সেই আবহ নিজের ছবিতেও তৈরি করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে নির্দেশ দিতে পারেন—
‘আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের একটি স্বতঃস্ফূর্ত ছুটির দিনের ছবিতে রূপান্তর করুন। আমার মুখ ও পরিচিতি যেন স্বাভাবিক ও সহজে চেনা যায়। আমাকে নব্বইয়ের দশকের উপযোগী ভ্রমণের পোশাক পরিয়ে দিন এবং রোদেলা কোনো ছুটির পরিবেশে রাখুন। ছবিতে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ের ফিল্ম ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলুন। হালকা ফিকে উজ্জ্বল অংশ, উষ্ণ রং, অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন ও সামান্য অসম্পূর্ণ ফ্রেমিং রাখুন। শরীরের ভঙ্গি যেন স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়। পুরো ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের একটি সত্যিকারের পারিবারিক ছুটির ছবির মতো দেখায়।’
এতে আধুনিক ফটোগ্রাফির নিখুঁত বিন্যাসের বদলে পুরোনো দিনের অ্যালবামে পাওয়া কোনো স্মৃতির মতো আবহ তৈরি হতে পারে।
বলিউডের নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যামার
নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় সিনেমার ফ্যাশন ও পোর্ট্রেটের কথাও আলাদা করে মনে রাখার মতো। সেই সময়ের পোশাক, চুলের ধরন, গয়না ও অন্যান্য অনুষঙ্গের সঙ্গে নাটকীয় স্টুডিয়ো আলো মিলিয়ে তৈরি করা হতো ঝলমলে প্রচারমূলক ছবি। নিজের ছবিতেও সেই আবহ আনতে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া যায়।
বাংলায় এমন নির্দেশ লেখা যেতে পারে—
‘আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত একটি জমকালো পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন, পরিচিতি ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাকে নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় ফ্যাশন, চুলের ধরন ও উপযোগী অনুষঙ্গে সাজিয়ে দিন। ছবিতে নাটকীয় স্টুডিয়ো আলো, সমৃদ্ধ কিন্তু সামান্য ফিকে রং, সফট ফোকাস ও বাস্তবসম্মত অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাময়িকী শুট বা প্রচারমূলক আলোকচিত্রের মতো মনে হয়। শুধু আধুনিক ছবির ওপর ভিন্টেজ ফিল্টার বসানো হয়েছে—এমন যেন না লাগে।’
শুধু ফিল্টার নয়, বদলাতে হবে পুরো আবহ
এ ধরনের ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দেশ যত নির্দিষ্ট হবে, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। শুধু ‘নব্বইয়ের দশকের ছবি’ বললে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো কেবল ছবির রং বা গ্রেন পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু পোশাক, চুলের ধরন, পটভূমি, আলোর ধরন, ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য ও ছবির পরিবেশ সম্পর্কে আলাদা করে নির্দেশ দিলে ফল অনেক বেশি নির্দিষ্ট হতে পারে।
তবে নিজের মুখের পরিচিতি ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার কথাটিও নির্দেশে উল্লেখ করা ভালো। এতে ছবিটিকে নিজের মতো রাখার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত সময়ের ফ্যাশন ও আলোকচিত্রের আবহ যোগ করা সহজ হয়।
সবশেষে, নব্বইয়ের দশকের ছবি তৈরির আকর্ষণটা হলো নিজের বর্তমান চেহারার সঙ্গে সেই সময়ের ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির নস্টালজিয়াকে মিলিয়ে দেখা। স্টুডিয়ো পোর্ট্রেট, পারিবারিক ছুটির ছবি কিংবা বলিউড-অনুপ্রাণিত গ্ল্যামার শুট—সঠিক নির্দেশনা দিলে নিজের জন্য তৈরি করা যায় হারিয়ে যাওয়া সময়ের একটি কাল্পনিক স্মৃতি।
এমএম/