দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এক ঝলকেই যেন ফিরে যাওয়া আশি-নব্বইয়ের দশকে। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে নিজের ছবিকে পুরোনো দিনের সাজ, পোশাক আর পরিবেশে রূপ দিয়ে মুহূর্তেই নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই নতুন প্রবণতা বেশ আনন্দ দিচ্ছে ব্যবহারকারীদের। তবে কয়েক সেকেন্ডের এই বিনোদনের আড়ালেই থেকে যাচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় কিছু প্রশ্ন।
আশি-নব্বইয়ের দশকের চেনা আবহ তৈরি করতে এখন আর স্টুডিও বা ক্যামেরার প্রয়োজন হচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি অ্যাপে নিজের ছবি দিলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ছাঁট ও পেছনের পরিবেশ। কারও পরনে দেখা যাচ্ছে সেই সময়ের পোশাক, কারও ছবির পেছনে ফুটে উঠছে পুরোনো ঢাকার আমেজ। আবার কেউ হয়ে উঠছেন পুরোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকা।
বিনোদনের জন্য এই প্রবণতা আকর্ষণীয় হলেও, এর আড়ালে রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার অর্থ শুধু নিজের চেহারার তথ্য দেওয়া নয়। ছবির পেছনে থাকা ঘরবাড়ি, অফিসের পরিচয়পত্র কিংবা ছবির সঙ্গে থাকা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজেই পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু মানুষের মুখের গঠন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই অপরিচিত কোনো অ্যাপে হুড়মুড় করে ছবি আপলোড করার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা জরুরি।
ছবি দেওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
মেয়াদ ও নিয়মকানুন: অ্যাপটি আপনার ছবি কতদিন সংরক্ষণ করবে, কাজ শেষে তা মুছে ফেলবে কি না, কিংবা আপনার ছবি ব্যবহার করে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেবে কি না—এসব শর্ত আগে দেখে নেওয়া উচিত।
অপ্রয়োজনীয় অনুমতি এড়িয়ে চলুন: একটি ছবি সম্পাদনা করতে গিয়ে পুরো ফোনের ছবি, অবস্থান, ক্যামেরা বা যোগাযোগের তালিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু যে ছবিটি সম্পাদনা করবেন, সেটুকুরই প্রবেশাধিকার দেওয়া উচিত।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও গোপন নথি নয়: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল কোনো নথির ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো সরঞ্জামে দেওয়া উচিত নয়।
ছবি মুছলেই কি সব শেষ?: অ্যাপ থেকে ছবি বা হিসাব মুছে ফেললেই যে তথ্য তাদের সার্ভার থেকে পুরোপুরি মুছে যাবে, তা নাও হতে পারে। অনেক সময় সংরক্ষিত কপি বা নিরাপত্তা সংরক্ষণ ব্যবস্থায় তথ্য থেকে যেতে পারে।
আজকের রেট্রো সাজ, কালকের ভুয়া ভিডিও?
আপনার ছবি ও কণ্ঠের নমুনা যদি সহজেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তবে অসৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় বা বিভ্রান্তিকর ভুয়া ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ফলে বিনোদনের এই প্রবণতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এর অর্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়। ছবি সম্পাদনার কাজ সহজ করার পাশাপাশি এটি কম সময়ে সৃজনশীল ভাবনার সুযোগও তৈরি করেছে।
মনে রাখতে হবে, আজকের আকর্ষণীয় রেট্রো সাজ কাল পুরোনো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অনলাইনে একবার ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত তথ্য সহজে মুছে ফেলা যায় না। তাই নতুন এই প্রবণতায় অংশ নেওয়ার আগে নিজের তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
/অ