দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২৩ আগস্ট পালিত হচ্ছে ‘ইন্টারনট দিবস’। ১৯৯১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি জেনেভায় ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থা (সার্ন) থেকে তার ইলেকট্রনিক গবেষণা প্রকল্পটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নথি সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে তৈরি এই প্রকল্পই পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী ওয়েব ব্যবহারের পথ খুলে দেয়।
তবে বিশ্বব্যাপী ওয়েবকে পুরো ইন্টারনেটের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। কম্পিউটারগুলোর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট এরও কয়েক দশক আগে থেকেই ছিল। বার্নার্স-লির উদ্ভাবনের মূল পরিবর্তন ছিল ওয়েবসাইট তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা, যা পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়।
এই কারণেই ২৩ আগস্ট ‘ইন্টারনট দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। ‘ইন্টারনট’ শব্দটি ইন্টারনেট ও মহাকাশচারী শব্দের সমন্বয়ে তৈরি একটি শব্দখেলা। বার্নার্স-লি প্রথম ১৯৮৯ সালের ১২ মার্চ বিশ্বব্যাপী ওয়েবের ধারণাটি প্রস্তাব করেছিলেন।
বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইটটি এখনো দেখা যায়। জেনেভায় সার্নের ঠিকানায় তৈরি সেই ওয়েবসাইটটি বর্তমান সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সাধারণ। তবে লেখা ও সংযোগের মাধ্যমে তথ্য দেখার যে পদ্ধতি ওয়েবের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেটির প্রাথমিক রূপ সেখানে দেখা যায়।
ওয়েবের শুরুর সময়ে বার্নার্স-লির তৈরি মূল ব্রাউজারটি শুধু নেক্সটস্টেপ পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহার করা যেত। ১৯৮৯ সালে তিনি নেক্সটস্টেপে প্রকল্পটির উন্নয়ন করেন। মূল ব্রাউজারটি ব্যাপক সাফল্য না পেলেও অনলাইন কার্যক্রমের বিকাশে এর প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নেক্সটস্টেপ পরবর্তী সময়ে প্রথম অ্যাপ বিপণি, ডুম ও কোয়েকের মতো গেম এবং অ্যাপলের বিভিন্ন পরিচালন ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। অ্যাপল ১৯৯৬ সালে নেক্সটস্টেপ অধিগ্রহণ করে।
ওয়েবের প্রথম দিকের অনুসন্ধান ব্যবস্থার মধ্যে ছিল আর্চি। কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অ্যালান এমটেজ এটি তৈরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তৈরি আর্চি ১৯৯০ সালে চালু হয়, অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী ওয়েব চালুর আগেই। ওয়েবের শুরুর সময়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট হাতে হাতে তালিকাভুক্ত করা হলেও আর্চি ও পরে গফারের মতো অনুসন্ধান ব্যবস্থা ইন্টারনেটের তথ্যকে আরও সহজলভ্য করে তোলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাসেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চালু থাকা সিক্সডিগ্রিজ ডটকমকে বর্তমান ধারণার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রথম দিকের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। এর আগে বিভিন্ন আলাপচারিতার মাধ্যম থাকলেও সিক্সডিগ্রিজে ব্যবহারকারীরা নিজেদের আসল নাম দিয়ে নিবন্ধন করে বন্ধুদের নিয়ে একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারতেন।
ব্যক্তিগত পরিচিতি, বন্ধু তালিকা ও সম্পর্কের অবস্থা জানানোর মতো সুবিধা ছিল সিক্সডিগ্রিজে। পরবর্তী সময়ে ফ্রেন্ডস্টার, মাইস্পেস এবং ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশে এই ধারণা পথ দেখায়।
একটি গবেষণা প্রকল্প থেকে শুরু হয়ে বিশ্বব্যাপী ওয়েব আজ মানুষের যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও অনলাইন কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই ‘ইন্টারনট দিবস’ শুধু একটি উদ্ভাবনকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং একুশ শতককে গভীরভাবে প্রভাবিত করা প্রযুক্তির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো স্মরণ করারও দিন।
/অ