দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুরে ভর্তি না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির এবং আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের অভিযোগ ওঠা এক শিক্ষার্থীকে এবার দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে তার কারিগরি দক্ষতা যাচাই করে ভবিষ্যতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ওই শিক্ষার্থী আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া স্নাতক পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভর্তি হতে আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আইআইটি কানপুরের ওয়েবসাইটে একটি বার্তা রেখে যান, যেখানে লেখা ছিল, ‘ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ দরকার।’
ঘটনাটি সামনে আসে চলতি সপ্তাহের শুরুতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন, ভর্তি না হওয়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি এক্স ও রেডিটে এ–সংক্রান্ত কিছু চিত্রও প্রকাশ করেন। তার দাবি, ক্ষতি করা নয়, বরং নিজের দক্ষতা প্রমাণ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
শিক্ষার্থীর দাবি অনুযায়ী, তিনি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন, নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় সব নথি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিজের কাজের প্রমাণও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়নি এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
আইআইটি কানপুরের পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তাই এখন তাকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়। তবে তাকে প্রতিষ্ঠানে ডেকে এনে যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। তিনি যদি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে পরবর্তী ভর্তি চক্রে তাকে সুযোগ দেওয়া হবে।
মনীন্দ্র আগরওয়াল আরও নিশ্চিত করেছেন, ওই শিক্ষার্থী আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের সরকারি ওয়েবসাইটের কিছু অংশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তিনি জানান, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে এবং তাকে বোঝাতে বলা হয়েছে যে, কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ আইনবিরোধী এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করা উচিত নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইআইটি কানপুরের এক কর্মকর্তা জানান, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনায় মামলা করার কথা বিবেচনা করেছিল। তবে তার আগে শিক্ষার্থীর দাবি যাচাই এবং তার কারিগরি দক্ষতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আইআইটি কানপুর অতীতেও তরুণ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিভাদের উৎসাহ দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা এক তরুণকে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কেন্দ্রে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
/অ