দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডিজিটাল জীবনে কফি শপ, বিমানবন্দর, হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তবে এসব নেটওয়ার্কে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার প্রবেশসহ নানা ধরনের সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে প্রথমেই নেটওয়ার্কটির সঠিক নাম নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের কর্মীদের কাছ থেকে নেটওয়ার্কের নাম জেনে নেওয়া উচিত। কারণ, সাইবার অপরাধীরা বৈধ নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ওয়াই-ফাই তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত হওয়ার সুবিধা বন্ধ রাখা নিরাপদ।
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ভিপিএন ডিভাইস ও ইন্টারনেটের মধ্যে এনক্রিপ্ট করা সংযোগ তৈরি করে। এতে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ব্যক্তির পক্ষে ইন্টারনেট কার্যক্রম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়। তবে ভিপিএন ব্যবহার করলেই সব ধরনের অনলাইন নিরাপত্তাঝুঁকি দূর হয় না। তাই ভিপিএন ব্যবহারের আগে সেটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পাবলিক নেটওয়ার্কে কোনো ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েব ঠিকানাটি ‘https’ দিয়ে শুরু হয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে। ব্রাউজারের ঠিকানার পাশে তালা চিহ্ন থাকলেও ওয়েবসাইটের সংযোগ নিরাপদ কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
অপ্রয়োজনে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন না করাই ভালো। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, অফিসের গোপনীয় ব্যবস্থা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পাবলিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পর ডিভাইসের ফাইল শেয়ারিং সুবিধা বন্ধ রাখা উচিত। এ সুবিধা চালু থাকলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ তৈরি হতে পারে।
কাজ শেষ হলে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিভাইসের ওয়্যারলেস সেটিংস থেকে নেটওয়ার্কটি ‘ফরগেট’ করে দেওয়া নিরাপদ। কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে কাজ শেষে সাইন আউট করতে হবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংযোগের সুবিধাও বন্ধ রাখতে হবে।
ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম, ওয়েব ব্রাউজার ও অন্যান্য সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বিভিন্ন নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন করা হয়।
ম্যালওয়্যার ও ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ডিভাইসে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো উচিত।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল না করাও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহারের পাশাপাশি অব্যবহৃত অ্যাপ সরিয়ে ফেলা, ইনস্টলের আগে ব্যবহারকারীদের পর্যালোচনা ও রেটিং দেখা এবং অ্যাপের অনুমতিগুলো যাচাই করা উচিত। সন্দেহজনক কোনো অ্যাপ হলে তা ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এমএম/