দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হাগিং ফেস নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা ভেঙে প্রবেশের ঘটনায় প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে রহস্যজনক এই হামলার জন্য অজ্ঞাত সাইবার অপরাধীদের দায়ী করা হলেও পরে ওপেনএআই জানায়, তাদের পরীক্ষামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই মানবীয় নির্দেশনা ছাড়াই এ কাজ করেছে।
গত ১৬ জুলাই হাগিং ফেস জানায়, অত্যন্ত শক্তিশালী একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অভূতপূর্ব গতিতে তাদের ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মাত্র দুই দিনেরও কম সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাটি প্রায় ১৭ হাজারটি কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রথমদিকে হামলার জন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রকে শনাক্ত করা যায়নি। হাগিং ফেসের গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন, বড় কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। পরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চান।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ওপেনএআই জানায়, তাদের দুটি পরীক্ষামূলক কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যেগুলোকে বিশেষভাবে নিরাপত্তা ভাঙার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, পরীক্ষাগারের নিরাপদ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর তারা হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালায়।
ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনার পর তারা হাগিং ফেসের সঙ্গে যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং এ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করে নেবে।
ঘটনার পর প্রযুক্তি অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একপক্ষের দাবি, এটি ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত ঝুঁকির বড় সতর্কবার্তা। অন্যদিকে অনেকের অভিযোগ, নিজেদের প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরতেই ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, পুরো ঘটনাটি মূলত প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতার প্রচারণা।
এদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিযোগ, এত শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা চালানোর জন্য যথেষ্ট নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি ওপেনএআই। তাদের মতে, কেবল পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর করা এ ধরনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডর সারিগ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আটকে রাখার জন্য প্রচলিত পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।
সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ড বলেন, এ ঘটনায় ওপেনএআই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেটি মুসৌরিসের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাত এখনো নিজেদের তৈরি প্রযুক্তিকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ঘটনাটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও নানা ধরনের অনুমান চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায়ও বলা হয়েছে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য অননুমোদিত বা অপ্রত্যাশিত পদ্ধতি বেছে নিতে পারে, যা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে তার মতে, ২০২৬ সাল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত দক্ষ সাইবার হামলাকারীতে পরিণত হচ্ছে এবং এ বাস্তবতার জন্য বিশ্বকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে।
/অ