দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলের প্রচুর তাপমাত্রা এবং চরম বিকিরণ সহ্য করে সূর্যের সবচেয়ে কাছের পথ দিয়ে অতিক্রম করার পথে নাসার মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব । ২০১৮ সালে এই সোলার প্রোবটিকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে নাসা। তারপর থেকে সূর্যকে ২০ বারেরও বেশি প্রদক্ষিণ করেছে এটি। সূর্য কীভাবে কাজ করে তা আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে নাসার এই অনুসন্ধানী যান।
সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে ইতিহাসের পাতায় নিজের জায়গা করে নেওয়ার কঠিন এক মিশনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে নাসার মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। ইতিমধ্যে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে এই খুদে মহাকাশযানটি। সেখানে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা এবং ভয়াবহ বিকিরণ সহ্য করতে হচ্ছে একে।
কঠিন এই অভিযানের সময় কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে এটি। ২৭ ডিসেম্বরওটার থেকে পাওয়া একটি সংকেতের অপেক্ষায় থাকবেন বিজ্ঞানীরা, মহাকাশযানটি এই কঠিন পরীক্ষায় টিকে থাকতে পেরেছে কিনা তা নিশ্চিত করবে মহাকাশযানটি।
পার্কার সোলার প্রোব ২০১৮ সালে সূর্যকেন্দ্রিক যাত্রা শুরু করে। ইতিমধ্যে সূর্যের চারপাশে ২১ বার প্রদক্ষিণ করেছে এবং প্রতিবার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে এটি। তবে বড়দিনের উৎসবের সময়ের এই ভ্রমণটি একটি রেকর্ড।
মহাকাশযানটি ১,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং এমন বিকিরণ সহ্য করবে, যা এর কিছু যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দিতে পারে। তবে ১১.৫ সেন্টিমিটার পুরু কার্বন-মিশ্রিত একটি পর্দা একে সুরক্ষা দেবে।
এই মিশনের মূল লক্ষ্য সূর্যের কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা, এমনটাই দাবি করেছে বিজ্ঞানীরা।
নাসার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. নিকোলা ফক্স বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু একটি স্থানের পরিবেশ আপনি পুরোপুরি অনুভব করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি সেখানে সরাসরি যান। তাই আমরা সূর্যের পরিবেশকে অনুভব করতে পারি না, যতক্ষণ না আমরা এর মধ্য দিয়ে উড়ে যাই। আমি মহাকাশযান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকব। কিন্তু আমরা এটিকে এমনভাবে নকশা করেছি যাতে এটি এই কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। এটি একটি খুবই শক্ত, শক্তিশালী ছোট মহাকাশযান।
প্রতি ঘণ্টায় চার লাখ ৩০ হাজার মাইল বেগে ছুটবে খুদে যানটি। এই গতির তুলনা করলে লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছাতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড লাগবে। মহাকাশযানটি যখন সূর্যের বহিঃবায়ুমণ্ডল অতিক্রম করবে, তখন এটি বহুদিনের একটি রহস্যের সমাধান করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।
কে