দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন মডেল বাজারে এলেই অনেকের মনে হয় যে এবার ফোনটা বদলে ফেলি। কিন্তু প্রতি বছর ফোন বদলানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নয়। আবার দরকারের সময় বদলাতে দেরি করলে সময়, নিরাপত্তা ও কাজের গতি নষ্ট হতে পারে। পুরাতন এর পরিবর্তে নতুন মোবাইল ফোন কেনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসেসর, ব্যাটারি, ক্যামেরা ও সফটওয়্যার আপডেট দেখে মোবাইল ফোনের মডেল নির্বাচন করুন। এর পরে বাজেট অনুযায়ী মোবাইল ফোনের দাম MobileDokan এর ওয়েবসাইট থেকে থেকে দেখে নিতে পারেন। যে ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সেন্টার আপনার কাছাকাছি আছে এমন কেনা ভালো। তবে নতুন ফোন কেনার আগে কোন লক্ষণ দেখলে ফোন বদলানোর সময় হয়েছে।
সাধারণত ফোন কত বছর চলে: একটি ভালো মানের ফোন সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর ভালোভাবে চলতে পারে। এটি নির্ভর করে ফোনের মান, ব্যবহারের ধরন ও যত্নের ওপর। ফ্ল্যাগশিপ ফোন বেশি বছর আপডেট পায় বলে বেশি দিন টিকে। কম দামের ফোন সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ধীর হয়ে যায়। সুতরাং নির্দিষ্ট বছর নয়, ফোনের বর্তমান অবস্থাই আসল মাপকাঠি।
ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে গেলে: মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়। আগে যে ফোন পুরো দিন চলত, এখন যদি অর্ধেক দিনের মধ্যে চার্জ শেষ হয়ে যায় বা বারবার পাওয়ার ব্যাংক লাগে, তাহলে সমস্যা ব্যাটারিতে। তবে ফোন বদলানোর আগে ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ জেনে নিন। অনেক ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টারে তুলনামূলক কম খরচে ব্যাটারি বদলে দেওয়া হয়। এতে ফোনটি আরও এক-দুই বছর চালানো যেতে পারে।
ফোন স্লো হলে বা হ্যাং হলে: মোবাইল ফোনের মধ্যে থাকা অ্যাপ খুলতে অনেক সময় লেগে যায় কিংবা ঘনঘন হ্যাং করা বা ক্যামেরা চালু হতে দেরি হওয়া পুরোনো ফোনের সাধারণ লক্ষণ। তবে আগে কিছু সহজ উপায় চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে যেমন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলা, স্টোরেজ খালি করা, ক্যাশ পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনে ব্যাকআপ নিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়া। এতে অনেক সময় ফোন আবার আগের মতো ঠিকঠাক চলে। এরপরও যদি দৈনন্দিন একই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ফোন বদলানোর কথা ভাবতে পারেন।
সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হয়ে গেলে: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি, যা অনেকে খেয়াল করেন না। যদি ফোনে নিরাপত্তা আপডেট আসা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে হ্যাকার ও ম্যালওয়্যার টার্গেট করে। বিশেষ করে আপনি যদি ওই ফোনে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এছাড়া নতুন অ্যাপ পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ভার্শন সাপোর্ট নাও করতে পারে। সেটিংসে গিয়ে দেখে নিতে হবে যে ফোনের শেষ নিরাপত্তা আপডেট কবে এসেছে।
পর্দা, ক্যামেরা বা অন্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে: পর্দা ফাটা, টাচ ঠিকমতো কাজ না করা বা ক্যামেরা ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যায় আগে মেরামতের খরচ দেখুন। সাধারণ নিয়ম হলো, সার্ভিসিং এর খরচ ফোনের বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেকের বেশি হলে নতুন ফোন কেনাই বেশি যুক্তিসংগত। কারণ মেরামতের পরও অন্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
আপনার প্রয়োজন বদলে গেলে: হয়তো আপনি এখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছেন, ভিডিও বানাচ্ছেন বা ভারী গেম খেলছেন। পুরোনো ফোন এসব কাজ যদি সাপোর্ট না করে তাহলে নতুন ফোন কেনার কথা চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু শুধু ফেসবুক, ইউটিউব আর কল-মেসেজের কাজে পুরোনো ফোন যদি ঠিকমতো চলে তাহলে পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না।
পুরোনো ফোন বিক্রি: নতুন ফোন কেনার আগে পুরোনোটি বিক্রি করে দিতে পারেন। তবে বিক্রি করার আগে ব্যাকআপ নিয়ে নিতে হবে। মোবাইল ফোনে থাকা সব অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করে এবং ফ্যাক্টরি রিসেট দিতে হবে যাতে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য না থাকে। ক্রেতাকে বক্স, বিল ও আইএমইআই নম্বর দেখিয়ে দেওয়া ভালো।
মন্তব্য: ফোন বদলানোর সঠিক সময় তখন, যখন ফোন ব্যবহারের নানামুখী সমস্যা পরতে হচ্ছে। যেমন আপনি যে ধরনের কাজে করতে চাচ্ছেন তা করতে পারছেন না, নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পরছেন বা সার্ভিসিং খরচ অনেক বেশি। এমন সমস্যার সম্মুখীন হলে নতুন মোবাইল ফোন নেওয়াই ভালো। শুধু নতুনের আকর্ষণে না নিয়ে প্রয়োজন ও বাজেট বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
কে