দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা না গেলে দেশটির রপ্তানির জন্য মজুত তেল ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। তবে হামলায় পাইপলাইনের কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং কতদিন এটি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে রিয়াদ এখনো বিস্তারিত জানায়নি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি সূত্র ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর আগেই মেরামত শেষ হতে পারে এবং কাজ চলার সময়ও পাইপলাইনের একটি অংশ দিয়ে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হতে পারে।
সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাওয়া এই পাইপলাইন গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালির যুদ্ধকালীন অচলাবস্থার প্রভাব থেকে সৌদি আরবকে অনেকটাই সুরক্ষা দিয়ে আসছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশটি পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়ে আসছিল। এই পরিমাণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।
শিল্পসংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আরেকটি সূত্রের মতে, সৌদি আরব মিসরের লোহিত সাগর উপকূলের আইন সুখনা এবং ভূমধ্যসাগরীয় সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করতে পারবে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবুতে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সুখনা ও সিদি কেরিতে যথাক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রাখা যায়। তবে এসব মজুত পূর্ণ নয়। ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি চালু না হলে একপর্যায়ে সৌদি আরবের রপ্তানি সক্ষমতা আরও কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বছর বিশ্বে দৈনিক তেল সরবরাহ ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমতে পারে।
এদিকে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে আসা ইয়েমেনের হুথিরা শুক্রবার লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে একটি দ্বীপ দখল করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হতো। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে।
সৌদি আরব গত সপ্তাহে OPEC-কে জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।
পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সৌদি আরবের রপ্তানি সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আরও কমে গেলে জ্বালানি বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপও বাড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/