দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ট্রেনটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই রেলপথ দিয়ে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভ থেকে ফিরছিলেন।
ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় ওই ট্রেনে ড্রোন হামলা হয়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভে একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর জনসন ও ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা একই রেলপথ দিয়ে ফিরছিলেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের জোনাথন পাওয়েলও ছিলেন।
বরিস জনসন এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা করে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি স্থির ইউক্রেনীয় ইঞ্জিনে হামলা চালানোর পেছনে কী ধরনের বিকৃত যুক্তি কাজ করেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কবে দেওয়া হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান উক্রজালিজনিতসিয়া জানিয়েছে, হামলার প্রায় ১৫ মিনিট আগে একটি জেটচালিত ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জনসনসহ কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেনটি এর আগে ইয়াহোদিন স্টেশনে অবস্থান করছিল। তবে রুশ হামলার আশঙ্কায় সময়সূচি পরিবর্তন করে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়। ফলে হামলার সময় ট্রেনটি সেখানে ছিল না।
উক্রজালিজনিতসিয়ার ভাষ্য, ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ওই কূটনৈতিক ট্রেনও হতে পারে। রুশ হামলার অব্যাহত হুমকির কারণে সময়সূচি পরিবর্তন করে ট্রেনটি আগেভাগে স্টেশন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হামলার সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান ডেভিড পেট্রাউসও ছিলেন। পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে।
কিয়েভের সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ট বিবিসিকে জানান, তিনি যে ট্রেনে ছিলেন, সেটিও হামলার সময় থেমে যায়। যাত্রীদের প্রথমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ জানিয়ে তাঁদের যাত্রা অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইয়াহোদিনে সীমান্তের কাছে হামলাকে বর্বর আখ্যা দিয়ে বলেন, পুতিনের সন্ত্রাস যেন সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় কড়া নাড়ছে। তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের রেলপথ, রেল ডিপো ও পরিবহন অবকাঠামোতে একাধিক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। চলতি মাসের শুরুতে কিয়েভে রেলওয়ের একটি ডিপোতে হামলায় রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানের ছয় কর্মী নিহত হন। চলতি সপ্তাহেও দক্ষিণ ইউক্রেনে যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ট্রেনকর্মী নিহত হন।
এর আগে জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর হামলাটিকে সন্ত্রাসবাদ বলে নিন্দা করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটির কোটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে রেলপথ। রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিস্তৃত রেল যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/