দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। শুক্রবারের এ হামলাকে যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলাটি যুদ্ধের বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত। তিনি রাশিয়াকে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সময়ে কিয়েভে টানা দশম দিনের মতো রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ড্রোনটি এসবিইউ প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালায়। এসবিইউ প্রধান ওলেক্সান্দর পোকলাদকে তিনি রুশ হামলার জবাবের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, জবাব কোথায় দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধে এসবিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংস্থাটি রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী একটি সেতুতে বিস্ফোরণ এবং ২০২৫ সালে রুশ কৌশলগত বোমারু বিমান লক্ষ্য করে ‘স্পাইডারওয়েব’ নামে পরিচিত ড্রোন হামলার মতো অভিযানের সঙ্গেও এসবিইউর নাম জড়িয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউক্রেনের করা গোপন হত্যাকাণ্ডের অভিযানেও সংস্থাটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হিসেবে দেখা হয়। তবে এসব হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে রাশিয়া।
রুশ হামলাটি এমন সময়ে হলো, যখন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরের কথা রয়েছে। কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এদিকে এক হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সম্মুখসারিতে লড়াই এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দুই দূত রোববার কিয়েভ সফর করবেন। তাঁদের সফরের সময় ইউক্রেনে রুশ বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁদের মস্কো সফরের সময় রুশ আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দপ্তরে রুশ হামলা যুদ্ধের বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে এবং এর জন্য দৃঢ় জবাব প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগের মধ্যেই মস্কো এই হামলা চালিয়ে কূটনীতির প্রতি তাদের অনীহা প্রকাশ করেছে।
শুক্রবারের হামলার পর কিয়েভের ঐতিহাসিক এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে বহু অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবাকর্মী পাঠানো হয়। এলাকাটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছাকাছি।
ইউক্রেনের ইউরোপিয়ান পলিসি ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ইরিনা বোরোভেতস জানান, তাঁদের কার্যালয় হামলাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁদের কার্যালয়ের দেয়াল কেঁপে ওঠে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া কমপ্লেক্সের একটি ভবনের জানালা বিস্ফোরণে ভেঙে গেছে। হামলায় এসবিইউ সদর দপ্তরের বিপরীতে অবস্থিত জনপ্রিয় একটি বেকারির ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির ভেতরে ভাঙা কাচ ছড়িয়ে পড়ার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
কিয়েভের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী ওলেহ বলেন, শহরের মানুষ হয়তো এমন হামলায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। তবে তাঁর আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/