দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে ছোট নৌকার ব্যবহার কমে আসায় মানবপাচারকারী চক্রগুলো নতুন কৌশল নিচ্ছে। বড় আকারের নৌকায় বেশি মানুষ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী চক্রগুলোও এখন একসঙ্গে কাজ করছে বলে বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ১৫ মিটার দীর্ঘ একটি নৌকায় ২৩০ অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইংলিশ চ্যানেলে অবৈধ পারাপার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের ঠেকাতে ফ্রান্সের পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়।
বিবিসির অনুসন্ধান বলছে, ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে সক্রিয় পাচারকারী চক্রগুলোর কাছে ছোট নৌকার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে কমসংখ্যক নৌকায় বেশি অভিবাসী পারাপারের চেষ্টা চলছে। এমনকি আরও বড় আকারের ‘মেগা ডিঙ্গি’ প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ ধরনের বড় নৌকায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ পারাপারের কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন ইংলিশ চ্যানেলের দুই পাড়ের উদ্ধারকর্মীরা। গত ৪ আগস্ট একটি নৌকায় আগুন লাগার পর ১৭০ জনকে উদ্ধার করতে হয়েছিল।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য উপকূলে অভিবাসীদের পারাপার ঠেকাতে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ফরাসি কর্মকর্তাদের দাবি, তারা এখন উপকূলে পৌঁছানোর আগেই প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছোট নৌকা ঠেকিয়ে দিচ্ছেন।
নৌকা সংকটের প্রভাব পড়েছে অভিবাসীদের খরচেও। পাচারকারীরা বর্তমানে একজনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ইউরো নিচ্ছে, যা এক বছর আগেও ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইউরো। এখন যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থও নেওয়া হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের গ্র্যাভলিনস সমুদ্রসৈকতে একদিন ভোরে মাত্র একটি ছোট নৌকাকে যাত্রী তুলতে দেখা যায়। উপকূলে আসা অভিবাসীদের কয়েক দফায় তুলে নেওয়ার জন্য নৌকাটি প্রায় তিন ঘণ্টায় পাঁচবার যাতায়াত করে।
শেষ পর্যন্ত ৮২ জনকে নিয়ে নৌকাটি ইংলিশ চ্যানেলের ব্যস্ত নৌপথে যাত্রা করে। পরে তারা সবাই যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সাধারণত ছোট নৌকাগুলো ব্রিটিশ জলসীমায় পৌঁছানোর পর সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করে। যুক্তরাজ্যের কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
সূত্র- বিবিসি
যে আই