দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানবপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন দিন দিন আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। অপরাধী চক্রগুলো ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। আকর্ষণীয় চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, বিচার এবং অংশীদারিত্ব—এই চারটি ভিত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং আইনি, শারীরিক, মানসিক ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম)’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও কেস ট্র্যাকিংয়ের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ সমাজ, নারী এবং বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং ভুয়া নিয়োগ চক্রের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদারে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মানবপাচার ও অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা, মুক্ত আলোচনা, তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সচেতনতামূলক পুতুলনাচের আয়োজন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের কাউন্টার ট্রাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ যৌথভাবে এ জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে।
যে আই