দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসে দেশটির সেনাসদস্যদের পাশাপাশি চরম অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা, আয় কমে যাওয়া, সন্তানদের দেখাশোনা এবং প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অনেক পরিবারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক পরিবার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ব্লু স্টার ফ্যামিলিজের শিকাগো অঞ্চলের প্রধান কোর্টনি স্যান্ডার্স বলেন, সেনাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন যেন আবেগের রোলার কোস্টারে পরিণত হয়েছে। কখনো কিছুটা স্বস্তি মিললেও পরক্ষণেই নতুন কোনো উদ্বেগ তাঁদের গ্রাস করছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। যুদ্ধের সহায়তায় আরও হাজারো নৌসেনা ও মেরিন সেনা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের মাঝে কখনো সংঘাত, কখনো কূটনৈতিক তৎপরতা ও ব্যর্থ শান্তি আলোচনা—সব মিলিয়ে সেনাসদস্যদের পরিবারগুলোর ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়েছে। ব্লু স্টার ফ্যামিলিজের মার্চের শুরুতে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ২০০টি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যের পরিবারের ৮১ শতাংশই ইরান সংঘাতের কারণে অতিরিক্ত মানসিক চাপের কথা জানিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি অনলাইন তথ্যকেন্দ্র, ওয়েবিনার ও সরাসরি সহায়তা কার্যক্রম বাড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো স্বামী বা স্ত্রীকে সামরিক দায়িত্বে পাঠানো পরিবারগুলোর সঙ্গে আগে এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর যোগাযোগও করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অনেক সেনাসদস্যের দায়িত্বের মেয়াদও হঠাৎ বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালন করেছে, যা আধুনিক সময়ের একটি রেকর্ড বলে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বাস্তবতার ভুল উপস্থাপন বলে দাবি করেছেন।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে অনেক পরিবারের আর্থিক অবস্থাতেও। বিশেষ করে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা দায়িত্বে না থাকলে সাধারণ চাকরি করেন। হঠাৎ মোতায়েনের কারণে তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের খাবারসহ দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্যান্ডার্স বলেন, বেসামরিক মানুষের মধ্যে এমন একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে সামরিক বাহিনীতে কাজ করলে সেনাসদস্যদের সব ধরনের খরচ সরকার বহন করে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সেনাসদস্যদের পরিবারগুলোর উদ্বেগের কথা শুনছে এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, সম্পদ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উত্তর ক্যারোলিনার সেনাসদস্যের স্ত্রী শ্যানন বলেন, ফেব্রুয়ারিতে মাত্র পাঁচ দিনের নোটিশে তাঁর স্বামীকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। প্রথম কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে খুবই সীমিত যোগাযোগ ছিল। জুন থেকে প্রায় প্রতিদিন যোগাযোগ সম্ভব হলেও যুদ্ধের কারণে পরিবারটির মধ্যে উদ্বেগ ও নানা ধরনের আবেগ কাজ করছে। তাঁর তিন সন্তানও গ্রীষ্মে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া শুরু করেছে।
ভার্জিনিয়ার নৌসেনার স্ত্রী প্যাটও প্রায় পাঁচ মাস ধরে স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশীরা সন্তানদের আনা-নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন। তবে স্বামী কবে বাড়ি ফিরবেন, সেই অনিশ্চয়তা এখনো তাঁদের পরিবারকে ভাবিয়ে তুলছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন সেনাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা ও আর্থিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ছয় মাসের এই যুদ্ধ তাঁদের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/