দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সীমান্তের কাছে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে চীন।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে হ্রদটি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। এরই মধ্যে হ্রদটি উপচে পড়ছে। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। এতে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
হ্রদটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীনের পানিসম্পদ কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে গেলে বন্যার পানি কোন দিকে এবং কী পরিমাণে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা নিরূপণে বিভিন্ন পরিস্থিতির অনুকরণ করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। এতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শত শত মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে তিনজনের মৃত্যু এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের অংশে প্রায় ১০০ চীনা নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্গত এলাকায় চীনা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকর্মী, সামরিক সদস্য, প্রকৌশলী, টেলিযোগাযোগকর্মী ও ত্রাণকর্মীদের মোতায়েন করেছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, অব্যাহত বৃষ্টি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন হ্রদটির সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে হ্রদটির পানি ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
/অ