দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছেলের পাশে রাত কাটাচ্ছিলেন এক নারী। সঙ্গে ছিল স্বর্ণ ও রুপার গয়নাভর্তি একটি ব্যাগ এবং কিছু নগদ টাকা। রাতের কোনো একসময় হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সেই ব্যাগ। প্রায় ৪ লাখ রুপি মূল্যের গয়না খোয়া যাওয়ার ঘটনায় শুরু হয় চোরের খোঁজে পুলিশের তৎপরতা।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তকারীরা যা দেখলেন, তাতে রীতিমতো বিস্মিত হন। যে ‘চোর’-এর খোঁজে পুলিশ নেমেছিল, সেটি কোনো মানুষ নয়—একটি কুকুর।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর জেলা হাসপাতালের শল্যচিকিৎসা ওয়ার্ডে ঘটেছে এ ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি কুকুর ওয়ার্ডে ঢুকে মুখে করে ওই নারীর গয়নাভর্তি ব্যাগ নিয়ে চলে যায়। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায়।
ব্যাগটির মালিক লতাবাই ভাল্মীকি। নাহারগড় থানা এলাকার কায়ামপুরের বাসিন্দা তিনি। হাতের আঘাত নিয়ে তার ছেলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থানকালে গয়না ও কিছু নগদ টাকা রাখা ব্যাগটি সঙ্গে রেখেছিলেন তিনি।
লতাবাইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে রাত ১টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে ব্যাগটি উধাও হয়। এতে ছিল একটি রুপার কোমরবন্ধ, রুপার নূপুর, একটি সোনার মঙ্গলসূত্র, দুটি সোনার আংটি, রুপার ঘুঙুর, সোনার পুঁতি, কানের দুল, নাকফুল ও রুপার পায়ের আঙুলের আংটি। সঙ্গে ছিল প্রায় ২ হাজার রুপি নগদ।
সব মিলিয়ে গয়না ও টাকার মূল্য ধরা হয় প্রায় ৪ লাখ রুপি।
সকালে ব্যাগটি খুঁজে না পেয়ে লতাবাই মান্দসৌরের সিটি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। গয়নার মূল্য বেশি হওয়ায় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। ব্যাগটির সন্ধানে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রধান কনস্টেবল অজয় সোলাঙ্কিকে।
তদন্তের অংশ হিসেবে হাসপাতালজুড়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে ঘটনার অদ্ভুত মোড়।
ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টার দিকে একটি কুকুর শল্যচিকিৎসা ওয়ার্ডে ঢুকে ব্যাগটি মুখে তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এরপর হাসপাতাল চত্বরের অন্যান্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কুকুরটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে পুলিশ।
এক ক্যামেরা থেকে আরেক ক্যামেরার ফুটেজ ধরে কুকুরটির পথ অনুসরণ করেন তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরের একটি খোলা জায়গায় পাওয়া যায় নিখোঁজ ব্যাগটি।
স্বস্তির বিষয়, ব্যাগের ভেতরে থাকা গয়না ও নগদ টাকা অক্ষত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা সব গয়না ও টাকা লতাবাইয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করে দেওয়ায় পুলিশ দলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুষ্পেন্দ্র সিং রাঠোর জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে এসেছিলেন লতাবাই। সকালে তিনি দেখতে পান, ছেলের কাছে একটি সংরক্ষণ আলমারিতে যত্ন করে রাখা মূল্যবান গয়নাভর্তি ব্যাগটি নেই। পরে সন্ধ্যায় তিনি থানায় এসে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ভোর ৪টার দিকে একটি কুকুরকে ওই এলাকায় ঢুকে ব্যাগটি মুখে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে লতাবাইকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ব্যাগের ভেতরে বিস্কুটসহ কিছু খাবারও ছিল। পুলিশের ধারণা, খাবারের গন্ধ পেয়ে কুকুরটি ব্যাগটি নিয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতি ছাড়াই শেষ হলেও মান্দসৌরের গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি পথকুকুর কীভাবে শল্যচিকিৎসা ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর স্বজনের ব্যাগ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়াল, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
তবে সিসিটিভি ক্যামেরার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রুপি মূল্যের গয়না ও নগদ টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
/অ