দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের হুমকির জবাবে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার এ হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘চূর্ণকারী, শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেবে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উদ্ধৃত তাঁর বক্তব্যে জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দিলে তাদেরও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত বুঝতে পেরেছে যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ইরানকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও ‘মনস্তাত্ত্বিক’ যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ করেন।
এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর তেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার তেলের দাম স্থির থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে চলতি সপ্তাহে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দাম বাড়ার পথে রয়েছে। বৃহস্পতিবার তেলের দাম তিন সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
বেসেন্ট বলেন, সর্বোচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা কমে আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকি এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের কারণে লাখ লাখ ব্যারেল মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রায় ৫০ বছর ধরে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরান নতুন মার্কিন পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এসব পদক্ষেপ ইরানের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্পে সামান্যতমও পরিবর্তন আনতে পারবে না।
বেসেন্ট জানিয়েছেন, সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, ইরানের ওপর অবরোধের পাশাপাশি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ইরানের বর্তমান সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে এবং মিত্র দেশগুলোসহ বিশ্বকে ইরান ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
চীনের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা
ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশের ক্রেতা চীন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা প্রকাশ্যে না করে গোপনে করাই ভালো। তাঁর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে, তাই ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সমন্বয় করা তাদের জন্যও লাভজনক হতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধান করে না। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
এদিকে ইরানের তেল সরবরাহে মার্কিন অবরোধের প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চীনা ক্রেতাদের কাছে ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রস্তাব কমে গেছে এবং চলতি সপ্তাহে এর দামও বেড়েছে। ১৩ জুলাই ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ পুনর্বহালের পর দেশটির তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এ প্রভাব পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/