দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের একটি দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক গত চার মাসে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এর পর ওই বিচারকের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ১০০টি হত্যা মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রবি কুমার দিওয়াকরের আদালতে থাকা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের এসব মামলা জেলা ও দায়রা জজ বীরেন্দ্র কুমার সিংয়ের আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সরকারি কৌঁসুলি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন।
জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রমোদ ত্যাগী বলেন, বিচারকের আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কায় আইনজীবী ও মামলার পক্ষগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
কে এই বিচারক রবি কুমার দিওয়াকার
বিচারক রবি কুমার দিওয়াকার ২০২২ সালে বারাণসীর জ্ঞানবাপী চত্বরে ভিডিওচিত্র ধারণের মাধ্যমে জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। কঠোর রায়ের জন্যও তিনি পরিচিত।
লখনউয়ের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী রবি কুমার দিওয়াকার ২০০৯ সালে আজমগড়ে অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৫ সালের মে মাসে তিনি সুলতানপুরে দেওয়ানি বিচারক পদে উন্নীত হন। এর প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পান।
বাণিজ্যে স্নাতক ও আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রবি কুমার দিওয়াকার ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মুজাফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চারজনকে মৃত্যুদণ্ড
গত ১৩ আগস্ট ১২ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন রবি কুমার দিওয়াকার। একই সঙ্গে রামবীর, রাজীব, রাহুল ও হরেন্দর কুমারকে ১ লাখ ৭০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়। ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই শামলি জেলায় পুরোনো বিরোধের জেরে পবন কুমারের বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় পবন কুমার নিহত হন এবং তার ভাই অশোক কুমার গুলিবিদ্ধ হন।
মুক্তিপণের জন্য কাঠ ব্যবসায়ী হত্যা
গত ১২ আগস্ট প্রায় ২৭ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। ১৯৯৯ সালে মুক্তিপণের জন্য কাঠ ব্যবসায়ী সালিমকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় শাহনওয়াজকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ৫ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করে সালিমকে অপহরণের পর ১৯৯৯ সালের ৯ ডিসেম্বর চাপার এলাকার একটি জঙ্গলে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল।
কৃষক হত্যায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড
গত ১৭ জুলাই ২০১১ সালে সংঘটিত এক কৃষক হত্যার ঘটনায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন দিওয়াকার। শামলি জেলায় ডাকাতির চেষ্টার সময় রাজ সিং নামের ওই কৃষককে হত্যা করা হয়েছিল।
২০১১ সালের ২০ আগস্ট রাজ সিং তার বন্ধু বিজেন্দ্রকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাদের আটকায়। ডাকাতির চেষ্টা করা হলে রাজ সিং বাধা দেন। এ সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং বিজেন্দ্রকে বেঁধে পাশের আখখেতে ফেলে রাখা হয়।
সাবেক গ্রামপ্রধান ও সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড
গত ৬ জুলাই ২০১০ সালের একটি হত্যা মামলায় সাবেক গ্রামপ্রধান প্রমোদ ও তার সহযোগী সাহদেবকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক। তিনি মামলাটিকে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০১০ সালের ২৪ আগস্ট পঞ্চায়েত নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে ৬০ বছর বয়সী রাজবীর সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় সাবেক গ্রামপ্রধান প্রমোদ ও তার সহযোগী সাহদেবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দায়িত্ব পালনরত হোমগার্ড হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
গত ২ জুলাই দায়িত্ব পালনরত এক হোমগার্ডকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেন রবি কুমার দিওয়াকার। তিনি মামলাটিকে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২০ সালের ৪ জুন হোমগার্ড রতিরাম দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযুক্তের মাকে মারধরের অভিযোগে তিনি তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত দীপক ছুরিকাঘাত করে রতিরামকে হত্যা করেন।
আরও দুইজনের মৃত্যুদণ্ড
গত ২০ জুন রাজেন্দ্র সাইনি হত্যা মামলায় গজেন্দ্র ও রামকিরণ নামের দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক। তিনিও মামলাটিকে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ বলে উল্লেখ করেন।
১৫ বছর আগের জোড়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড
গত ৩০ মে প্রায় ১৫ বছর আগের একটি জোড়া হত্যা মামলায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় তার দ্রুত বিচার আদালত। মামলাটিকে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তির উপযুক্ত বলে পর্যবেক্ষণ দেন বিচারক।
২০১১ সালের ৭ নভেম্বর মুজাফফরনগর জেলায় রাজেশ দেবী ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলে হিমাংশুকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রহিস নামের ওই ব্যক্তি রাজেশ দেবী ও তার ছেলেকে পাশের একটি আখখেতে নিয়ে যান। সেখানে তর্কের একপর্যায়ে ইট দিয়ে আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়। ১৩ নভেম্বর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নারী ও তার তিন ছেলের মৃত্যুদণ্ড
গত ২৮ এপ্রিল ২০১৯ সালের একটি হত্যা মামলায় এক নারী ও তার তিন ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক দিওয়াকার।
আইনজীবী হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
গত ৬ এপ্রিল ২০১৯ সালে এক আইনজীবীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন মুজাফফরনগরের দ্রুত বিচার আদালত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থসংক্রান্ত ৪৫ লাখ রুপির বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর আইনজীবী মোহাম্মদ সামিরকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। তদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তরা তাদের একজনের সহায়তায় মরদেহ অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলেছিল। পরে সিকরি গ্রামের একটি বনাঞ্চল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
/অ