দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তামিলনাড়ুর কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ফসলি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। এতে রাজ্যের প্রায় ১৪ লাখ ৪৪ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় স্বতঃপ্রণোদিত বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তিনি জানান, নতুন এই ঋণ মওকুফ বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ৯৫৩ কোটি ৬ লাখ রুপি ব্যয় হবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত সমবায় ফসলি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার রুপি এবং ১ লাখ রুপির বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত মওকুফ দেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৫ মে ক্ষুদ্র কৃষকদের ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত ফসলি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। পরে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন ঋণ মওকুফের কর্মসূচি সংশোধন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত কর্মসূচির আওতায় ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণ নেওয়া কৃষকদের পুরো ঋণ মওকুফ এবং ৭৫ হাজার রুপির বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট ৫ হাজার ৯৩২ কোটি ২৩ লাখ রুপির সমবায় ফসলি ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে, যার সুবিধা পাবেন ১৪ লাখ ৪৪ হাজার কৃষক।
বিজয় জানান, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৩ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ব্যাংক হিসাবে এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৫ হাজার ২৬৭ কোটি রুপি জমা দেওয়া হয়েছে।
নতুন ঘোষণায় ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত ফসলি ঋণ নেওয়া ২ লাখ ৩৮ হাজার ২৬৪ জন কৃষক অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন। তারা সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সুবিধা পাবেন। ফলে আগে পাওয়া সুবিধার বাইরে সর্বোচ্চ আরও ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণ মওকুফ হবে।
বিজয় বলেন, ‘কৃষিকে সম্মান করে এবং কৃষকদের যথাযথ সুরক্ষা ও সহায়তা দেয়—এমন দেশেই মানুষ সমৃদ্ধি ও সুখের সঙ্গে বসবাস করতে পারে।’
তিনি জানান, অতীতে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হলেও সমবায় ব্যাংকগুলোর পাওনা সরকার চার থেকে পাঁচ বছর ধরে পরিশোধ করেছে। ২০২১ সালের ঋণ মওকুফের অর্থও ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১২ কিস্তিতে সমবায় ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় মওকুফ করা পুরো অর্থ ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সমবায় ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই নতুন ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন। তবে সব কৃষকের ফসলি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফের দাবিও জানিয়েছে তারা।
তামিলনাড়ু বিবাসায়িগাল সংঘমের এক সদস্য বলেন, নতুন ঘোষণা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তবে সরকারকে সব কৃষকের ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফের ঘোষণা দিতে হবে।
তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের নির্বাচনী ইশতেহারেও কৃষকদের ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ছিল। সেখানে পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিক কৃষকদের সমবায় ফসলি ঋণ পুরোপুরি মওকুফ এবং এর বেশি জমির মালিকদের ঋণের ৫০ শতাংশ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
/অ