দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক ও যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক বরিস নাদেঝদিন দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। রাশিয়ার তদন্ত কমিটির তলবের পর গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী নাদেঝদিন সম্প্রতি রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে ১০ জুলাই রুশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চরমপন্থী প্রতীক’ প্রদর্শনের অভিযোগে তাঁকে আটক করে জরিমানাও করা হয়। অভিযোগটি তিনি অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
নাদেঝদিন জানান, এর মধ্যেই সরকারি অনলাইন পোর্টালে তাঁকে রাশিয়া ছাড়তে নিষেধাজ্ঞার তথ্য দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর তদন্ত কমিটির তলব আসে। এরপর হঠাৎ করেই তাঁর ওপর থাকা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ধারণা, এটি ছিল দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার একটি ইঙ্গিত।
ফ্রান্সে পৌঁছে নাদেঝদিন বলেন, তাঁর সামনে তখন দুটি পথ ছিল—নির্বাসন অথবা কারাগার। তিনি বলেন, সবচেয়ে ভালো খবর হলো তিনি জীবিত ও মুক্ত আছেন। তবে তাঁর পরিবার এখনো রাশিয়ায় রয়েছে এবং দেশ ছাড়ার কারণে মেয়ের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি।
নাদেঝদিন ২০২৪ সালের রুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসেন। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহে ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও রুশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তাঁর জমা দেওয়া স্বাক্ষরের একটি অংশ বাতিল করে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখে।
রাশিয়ায় জনমত বদলাচ্ছে বলে দাবি করেছেন নাদেঝদিন। তাঁর মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, রুশ অভিজাত শ্রেণি এবং পুতিনের ঘনিষ্ঠ মহলেও যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
নাদেঝদিনের বিশ্বাস, পুতিন ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা বুঝতে পারছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করাই রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পথ। তবে তিনি দ্রুত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশাবাদী নন।
এদিকে রাশিয়ায় বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। নাদেঝদিন দেশ ছাড়ার পর রাশিয়ার ভেতর থেকে ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক কণ্ঠও হারাল। বর্তমানে পুতিনের অধিকাংশ সমালোচক কারাগারে অথবা নির্বাসনে রয়েছেন।
সূত্র- সিএনএন
এমএস/