দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রে থাকা ২১০ বছরের পুরোনো সুগৌলি চুক্তির মূল নথিই খুঁজে পাচ্ছে না নেপাল। দেশটির সরকার পার্লামেন্টে জানিয়েছে, ১৮১৬ সালের ওই চুক্তির মূল কপি তাদের কাছে আছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অথচ এই চুক্তির ব্যাখ্যার ওপরই লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার মালিকানা নিয়ে নেপালের দীর্ঘদিনের দাবি অনেকাংশে নির্ভর করছে।
নেপালের প্রতিনিধি পরিষদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, সরকারের কাছে সুগৌলি চুক্তির কিছু নথি রয়েছে। তবে সেগুলো মূল সরকারি চুক্তি কি না, তা নিশ্চিত নয়। মূল নথির সন্ধানে জাতীয় আর্কাইভ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, গ্রন্থাগার, জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়েও এর হদিস মেলেনি।
১৮১৪-১৬ সালের অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ভারত ও নেপালের মধ্যে সুগৌলি চুক্তি হয়। ১৮১৫ সালের ডিসেম্বরে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত এবং ১৮১৬ সালের মার্চে অনুমোদিত হয়। আধুনিক নেপালের সীমানা নির্ধারণে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদে কালি বা মহাকালী নদীকে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিতর্কের মূল জায়গা হলো—এই নদীর উৎস কোথায়। নেপালের দাবি, নদীর উৎস লিম্পিয়াধুরায়। সে হিসাবে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ নদীর পূর্বদিকে পড়ে এবং নেপালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে ভারতের দাবি, কালি নদীর উৎস লিপুলেখ অঞ্চলের নিচের ঝরনাগুলোতে। ভারত প্রশাসনিক ও রাজস্ব নথির ভিত্তিতে কালাপানিকে উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। দুই দেশই ব্রিটিশ আমলের মানচিত্র ও ঐতিহাসিক নথিকে নিজেদের দাবির পক্ষে ব্যবহার করে।
তবে সুগৌলি চুক্তিতে লিম্পিয়াধুরাকে কালি নদীর উৎস হিসেবে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ওই উৎস নির্ধারণকারী উভয় দেশের স্বীকৃত কোনো মানচিত্রও চুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এই সীমান্ত বিরোধ ২০২০ সালে নতুন করে তীব্র হয়। ভারতের লিপুলেখ পর্যন্ত সড়ক উদ্বোধনের পর নেপাল আপত্তি জানায়।পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকার লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে। নেপালের পার্লামেন্টও সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে ওই মানচিত্র অনুমোদন করে।
ভারত ওই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে এবং নেপালের ভূখণ্ডগত দাবির সম্প্রসারণকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করে। এতে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীন লিপুলেখ দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হলে নেপাল আবারও আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি, লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা তাদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড।
এখন সীমান্ত বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সুগৌলি চুক্তির মূল নথিই নেপালের হাতে আছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে নেপাল বলছে, মূল কপি না মিললেও চুক্তি-সংশ্লিষ্ট নথি ও ঐতিহাসিক রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে এবং সীমান্ত নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত।
/অ