দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রুশ পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে ইউরোপীয় দেশগুলোর জাহাজও জব্দ করার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন ও উপযুক্ত মনে হলে রাশিয়া যেকোনো জায়গায় পাল্টা জাহাজ জব্দের ব্যবস্থা নেবে।’
বুধবার রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের মহড়ার সময় সাখালিন দ্বীপের কাছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজে অবস্থান করে পুতিন এ হুঁশিয়ারি দেন। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস ও রিয়া নভোস্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুতিন বলেন, কিছু দেশ রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন জাহাজ চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি তারা রুশ জাহাজ জব্দ করে সেগুলোতে থাকা সম্পদ বিক্রি করার পরিকল্পনাও করেছে।
এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাশিয়াকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্যোগকে ‘জলদস্যুতা ও লুটপাট’ বলে অভিহিত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
তিনি আরও জানান, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ সম্প্রতি রাশিয়ার কথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে কয়েকটি জাহাজ আটক করেছে। এসব জাহাজে রুশ তেল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তা ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দাবি।
গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করে। এর আওতায় সদস্যদেশগুলো আটক করা জাহাজের তেল বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
এদিকে পুতিন ন্যাটোর বিরুদ্ধেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, ন্যাটো এ অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, নতুন সামরিক-রাজনৈতিক জোট গড়ে উঠছে এবং রাশিয়ার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন নতুন অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে বা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্যও ন্যাটোকে দায়ী করেন।
প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার নৌমহড়া এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ওই মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার পরিস্থিতি অনুশীলন করা হবে।
এদিকে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে প্রাণঘাতী বিমান হামলায় রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এর এক দিন আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়া আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা পাচ্ছে। তার দাবি, এই সহযোগিতা শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়, পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
/অ