দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ার কয়েক দিন আগে সমুদ্রের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের সাগরে গিয়ে পড়ে। তবে এটি কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।
উত্তর কোরিয়ার এ উৎক্ষেপণের মাত্র ছয় দিন আগে একই এলাকা থেকে আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। চলতি বছর এটি উত্তর কোরিয়ার ১১তম সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বলে দক্ষিণ কোরিয়ার মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
আগামী ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে। মহড়াটির লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ও অস্ত্র সক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি জোরদার করা।
সিউলের কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি উত্তর কোরিয়ার চলমান অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হতে পারে। তবে সামরিক মহড়ার আগে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বার্তাও থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো উন্নয়নাধীন অস্ত্রের পরীক্ষা হলেও কখন সেটি করা হবে, সে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও নেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে অস্ত্রটির ধরন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সাধারণভাবে ৩০০ থেকে ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে স্বল্পপাল্লার শ্রেণিতে ধরা হয়।
হং মিনের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা, গতিপথ ও উৎক্ষেপণস্থল বিবেচনায় এটি কোনো ধরনের অতিদ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে। তবে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উৎক্ষেপণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং দেশটির কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি বৈঠক করেছে। ৬ আগস্টের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর আবারও এমন পরীক্ষা চালানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিউল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় যেকোনো উসকানির জবাব ‘প্রচণ্ডভাবে’ দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করছে। তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্য, ভূখণ্ড কিংবা মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি।
এদিকে উত্তর কোরিয়া বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং এটি উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ।
উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিপক্ষের সামরিক তৎপরতার জবাব এমন পাল্টা হামলার সক্ষমতার মাধ্যমে দিতে হবে, যাতে তাদের ‘টিকে থাকা ও পুনরুদ্ধার অসম্ভব’ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এক পৃথক মন্তব্যে জাপানের বিরুদ্ধেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের আড়ালে জাপান পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার দাবি করেছেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ওই হামলায় একটি ইস্পাত কারখানার সাত শ্রমিক নিহত হন বলে তিনি জানান।
/অ