দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘নিজের ঘরে অনুপ্রবেশের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি টুভালুর কাছাকাছি সমুদ্রে পড়ায় দেশটির বাসিন্দাদের মধ্যে সুনামি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ফিজিতে অনুষ্ঠিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের (পিআইএফ) বৈঠকের বাইরে শুক্রবার টুভালুর পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তা পাসুনা তুয়াগা বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে চীন যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, সে বিষয়ে টুভালুকে কোনো আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্রটি টুভালুর এত কাছাকাছি এলাকায় পড়বে—এ বিষয়েও বেইজিং কোনো তথ্য দেয়নি।
তুয়াগা বলেন, “নিজের ঘরে কেউ অনুপ্রবেশ করলে যেমন অনুভূতি হয়, বিষয়টি আমাদের কাছে অনেকটা তেমনই ছিল। যদি এটি সত্যিকারের ক্ষেপণাস্ত্র হতো? আমাদের প্রশ্ন হলো—আসলেই আঘাত হানার পর কি আমরা বিবৃতি দেব?”
তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। পরীক্ষামূলক বা ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করলেও এভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আচরণ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে পিআইএফের ১৮ সদস্যের সম্মিলিতভাবে চীনের সমালোচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তুয়াগার ভাষ্য, “আমরা কোনো শক্তির দ্বারা ভীত হতে চাই না। তাই এ বিষয়ে আমাদের একটি স্পষ্ট অবস্থান জানানো গুরুত্বপূর্ণ।” তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব মন্তব্য তিনি ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে করছেন; টুভালুর পররাষ্ট্র, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিচ্ছেন না।
চীনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তুয়াগা। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের ডামি ওয়ারহেডটি খুঁজে বের করতে টুভালু অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে।
এদিকে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স। তিনি বলেন, চীনের এই পরীক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান জানানোর একটি সুযোগ অঞ্চলটির দেশগুলো হাতছাড়া করেছে।
পিটার্স জানান, নিউজিল্যান্ড পিআইএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার জন্য চাপ দেবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল’।
ফিজির রাজধানী সুভায় শুক্রবার বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের পিটার্স বলেন, “এই বিতর্কে যুক্তি জয়ী হয় কি না, নাকি কেউ কেউ আগে থেকেই একটি অবস্থান ঠিক করে রেখেছে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।”
গত ৬ জুলাই চীন একটি সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। পরীক্ষার পর এখন পর্যন্ত পিআইএফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ আলাদাভাবে এই পরীক্ষার সমালোচনা করেছে।
পিটার্স কোন কোন দেশ যৌথ বিবৃতির পথে বাধা দিচ্ছে, তা বলতে রাজি হননি। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে কিরিবাতি, পাপুয়া নিউগিনি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নাম রয়েছে।
যৌথ বিবৃতি দুর্বল হলেও দেওয়া ভালো, নাকি কোনো বিবৃতিই না দেওয়া ভালো—এমন প্রশ্নের জবাবে পিটার্স বলেন, “এটাই ৬৪ হাজার ডলারের প্রশ্ন”—এবং বৈঠকে সেটিই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংও জানিয়েছেন, চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পিআইএফের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। তিনি এর আগে পরীক্ষাটিকে ‘অস্থিতিশীলতামূলক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
শুক্রবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ওং বলেন, “প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের অধিকাংশ সদস্যই চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমি আশা করি, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীদের এই স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া চীন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
এমএস/