দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন আঘাত হানতে যাচ্ছে। রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে ঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এতে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের পাশাপাশি ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, উপকূলে আঘাত হানার সময় টাইফুনটির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পরে স্থলভাগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এটি দুর্বল হয়ে পড়বে।
এর আগে টাইফুন ডলফিন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে ছয়জন আহত হন এবং ৫০ হাজারের বেশি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চীনে আঘাত হানার আগে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রভিত্তিক কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, জাহাজগুলোকে বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলাধার, পাহাড়ি ঝরনা, ভূমিধসপ্রবণ এলাকা, নির্মাণকাজের স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
১০ আগস্ট পর্যন্ত ঝেজিয়াং, সাংহাই, ফুজিয়ান, জিয়াংসি, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান পূর্বাভাসবিদ ওয়াং হাইপিং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, উপকূলে আঘাত হানার পর ডলফিন পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। পরে মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে।
তবে স্থলভাগে ঝড়ের গতি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা ও ছোট নদীগুলোতে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছিয়ানতাং, ইয়ং, জিয়াও ও শুইইয়াং নদীতে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ছোট নদীগুলোর পানিও সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে।
ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে তৃতীয় স্তরের এবং জিয়াংসু ও আনহুইতে চতুর্থ স্তরের বন্যা জরুরি অবস্থা বহাল রেখেছে চীন। দেশটির চার স্তরের জরুরি ব্যবস্থায় প্রথম স্তরকে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ভূমিধসসহ অন্যান্য ভূ-প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় ঝেজিয়াংয়ে তৃতীয় স্তরের এবং আনহুইতে চতুর্থ স্তরের সতর্কতা জারি করেছে প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এদিকে সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দরে টাইফুনের প্রস্তুতি হিসেবে জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্দরের পাঁচ শতাধিক ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ