দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শিশু নির্যাতনের ১ হাজার ৯১৪টি ঘটনা ঘটেছে। দেশটির শিশু অধিকারবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা সাহিলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১৫টি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৫৫৮টি অপহরণ, ১০১টি শিশু নিখোঁজ এবং ৩৫টি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে। যৌন নির্যাতনের পর শিশুদের পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহারের ৯৮টি ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে ৪৯টি শিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পাওয়া যায়।
সাহিল জানিয়েছে, চারটি প্রদেশের পাশাপাশি ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি (আইসিটি), আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) এবং গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার শিশুদের ৫৮ শতাংশই মেয়ে। বয়সভিত্তিক হিসাবে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিল। এই বয়সসীমার ৫৯৮টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৩৫৬ জন, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ৩২৯ জন এবং শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৯৫ শিশু এ তালিকায় রয়েছে। ৪৮৭টি ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বয়স উল্লেখ করা হয়নি।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শিশুদের জন্য পরিচিত ব্যক্তিরাও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ৪৩ শতাংশ ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের পরিচিত ব্যক্তি, আর ৩৪ শতাংশ ঘটনায় অভিযুক্তরা ছিল অপরিচিত।
নির্যাতনের স্থান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে ভুক্তভোগী শিশুর নিজ বাড়িতে। অভিযুক্তের বাড়িতে ঘটেছে ১৮ শতাংশ ঘটনা। এ ছাড়া ৩ শতাংশ ঘটনা খোলা মাঠে ঘটেছে। ২১ শতাংশ ঘটনায় নির্যাতনের স্থান উল্লেখ করা হয়নি।
শহরাঞ্চলে শিশু নির্যাতনের ঘটনা গ্রামাঞ্চলের তুলনায় বেশি। মোট ঘটনার ৫৭ শতাংশ শহরাঞ্চলে এবং ৪৩ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে ঘটেছে।
প্রদেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে। মোট ঘটনার ৮০ শতাংশই সেখানে ঘটেছে। এরপর সিন্ধু প্রদেশে ১৫ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বাকি ৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে।
সাহিলের তথ্য অনুযায়ী, মোট ঘটনার ৮৯ শতাংশ পুলিশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে বাকি ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের অবস্থা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে সাতটি ঘটনা পুলিশের কাছে অনিবন্ধিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ঘটনায় পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
শিশু নির্যাতনের এসব ঘটনা মূলত সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সাহিল। ফলে প্রকৃত নির্যাতনের সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে আরও বেশি হতে পারে।
এমএস/