দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে ফিরেছিলেন স্বামী। কিন্তু ঘরের দরজা খুলতেই যা দেখলেন, তাতে যেন পায়ের তলার মাটি সরে যায়। দেখেন, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন তার স্ত্রী। আর তার পরের ঘটনাগুলো যেন থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়!
ওই নারী তার প্রেমিককে চাপ দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যা করো, নাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’
ভারতের তেলেঙ্গানার মহাবুবাবাদ জেলার চিলকোডু গ্রামের বাসিন্দা গাড়ে রাজেশ্বর রাও। খাম্মামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন তিনি। ২০১৬ সালে ভবানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে তাদের।
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে রাজেশ্বর জানান, গত ২৭ জুলাই দুপুরে তিনি হঠাৎ বাড়ি ফেরেন। তখনই তিনি তার স্ত্রী ভবানীকে অন্য এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান।
ওই যুবকের নাম সাইদুল, পেশায় তিনি একজন কুরিয়ার ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ।
পরদিন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিশি সভা বসেছিল। সালিশি সভার পরদিনই পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
রাজেশ্বর যখন অন্য একটি গ্রামে তার বড় ভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্ত সাইদুল তার পিছু নেয়। কোনোমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান রাজেশ্বর।
পরে স্ত্রীর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম চ্যাট পরীক্ষা করেন তিনি। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
চ্যাট রেকর্ডে দেখা যায়, প্রেমিক সাইদুলকে ভবানী স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, ‘আমার স্বামীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা করো, নালে আমি আত্মহত্যা করব।’
ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে রাজেশ্বরকে খুন করে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন স্ত্রী।
স্ত্রীর এই ভয়ংকর পরিকল্পনা দেখার পর আর চুপ করে থাকেননি রাজেশ্বর। তিনি দ্রুত পুরো চ্যাট বক্সের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করেন। এরপর গত ১ আগস্ট ডোরনাকাল থানায় গিয়ে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে জিরো এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পরবর্তীতে তা খাম্মাম গ্রামীণ থানায় স্থানান্তরিত করে।
তবে তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে রাজেশ্বর খাম্মাম গ্রামীণ থানায় আবারও যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বর্তমানে পুলিশ হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের ওই চ্যাট রেকর্ডগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলেই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে