দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের অভিযোগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩১ মে রাতে অভিযান চালিয়ে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় মামলা করা হয়। বর্তমানে তিনি তিহার কারাগারে রয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় উইং কমান্ডারের। প্রথমে অনলাইনে কথোপকথন এবং পরে নিয়মিত ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে ওই নারী কর্মকর্তার আস্থা অর্জন করেন এবং সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত তথ্য জানতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে সামরিক ইউনিটের চলাচল ও মোতায়েনের তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য সংবেদনশীল নথি নেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এবং ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ভারতীয় কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলা হয়।
তদন্তে আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী উইং কমান্ডারকে তার এক সহকর্মীর মোবাইল ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, অ্যাপটি স্পাইওয়্যার বা দূরবর্তীভাবে নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যার হতে পারে। এর মাধ্যমে মোবাইলের তথ্য, অবস্থান কিংবা কথোপকথনে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের সন্দেহ, শুধু একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ নয়, অন্য প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন ও সংবেদনশীল তথ্যেও প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশ মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা নারী পাকিস্তানে অবস্থানরত গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিলেন। ফলে ঘটনাটি কোনো বড় গুপ্তচর নেটওয়ার্কের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার কাছ থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য যোগাযোগের ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা। কোন কোন মাধ্যমে ওই কর্মকর্তা ও নারীর যোগাযোগ হয়েছে, কী পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে এবং এসব তথ্য কার কাছে পৌঁছেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে কথিত বিদেশি হ্যান্ডলারদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। ফলে সম্ভাব্য বৃহত্তর গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সন্ধানেও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
/অ