দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের চিপ শিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সেমিকন্ডাক্টর ও সৌর প্যানেল তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল পলিসিলিকনের আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পলিসিলিকন ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য ন্যূনতম আমদানি মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন শুল্ক ও ন্যূনতম আমদানি মূল্য আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পলিসিলিকন উৎপাদন বাড়াতে প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের পলিসিলিকন উৎপাদন খাত দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, সামরিক সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক পণ্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানের উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অংশ ২০০৫ সালের ৫০ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ২ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।
বিশ্বের পলিসিলিকন উৎপাদনে চীনের প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নতুন মার্কিন শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উৎপাদক হেমলক সেমিকন্ডাক্টর ও ওয়াকার কেমি সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিপ উৎপাদনকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে। ২০২৫ সালের মে থেকে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের বিরোধ স্থগিত থাকলেও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস। তাদের দাবি, এই শুল্ক দুই দেশের বাণিজ্যকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করবে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে।
চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের মতে, সুরক্ষাবাদী নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে না।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থায় চীনের ভূমিকা সীমিত করার ওয়াশিংটনের সর্বশেষ উদ্যোগ।
এর আগে চীন থেকে ড্রোন, মানবাকৃতির রোবটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চলতি সপ্তাহে ড্রোন রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। আমদানি করা মুদ্রণযন্ত্র ও অনুলিপি তৈরির যন্ত্র নিয়েও জাতীয় নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু করেছে দেশটি।
সূত্র: বিবিসি
/অ