দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের অংশ চাঁদে আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এক বছরের বেশি সময় মহাকাশে ভেসে থাকার পর বুধবার রকেটটির ওপরের অংশটি চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় চার হাজার কেজি ওজনের রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদে আঘাত হানে। এটি শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। সংঘর্ষের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটির বিস্ফোরণের সমান ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। এতে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সংঘর্ষের দৃশ্য দেখতে পাননি। তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণযন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০ লাখ কেজি ধুলাবালি ও শিলাখণ্ড ছিটকে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাসার চন্দ্র পর্যবেক্ষণকারী মহাকাশযান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংঘর্ষস্থলের ছবি তুলবে, যাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুটি চন্দ্রযান বহনের উদ্দেশ্যে ফ্যালকন-৯ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তবে রকেটটির কোনো অংশই চাঁদে আঘাত করার জন্য পরিকল্পিত ছিল না। উৎক্ষেপণের সময় নিচের অংশটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এলেও চন্দ্রযানকে চাঁদের দিকে পরিচালিত করা ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়।
স্পেসএক্সের নাসা বিজ্ঞান ও ড্রাগন মহাকাশযান কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়ানা শেইম্যান বলেন, সূর্যের কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির সম্মিলিত প্রভাবে রকেটটির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের পর সৃষ্ট ধুলাবালির মেঘ প্রায় ১১৪ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
নাসা জানিয়েছে, এ সংঘর্ষে পৃথিবীর কোনো ঝুঁকি নেই। তবে প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে তারা রকেটটির গতিপথ অনুসরণ করবে এবং সংঘর্ষস্থল পর্যবেক্ষণ করবে।
কানাডার অন্টারিওর ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল উইগার্ট বলেন, কোনো বস্তু চাঁদে আঘাত করলে গর্ত তৈরি হয় এবং প্রচুর উপাদান ছিটকে যায়। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি। ভবিষ্যতে চাঁদে আরও মহাকাশযান ও নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা থাকায় এ ধরনের সংঘর্ষ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
জুলিয়ানা শেইম্যানও বলেন, একজন বিজ্ঞানী হিসেবে এই সংঘর্ষের পর্যবেক্ষণের ফলাফল দেখতে তিনি আগ্রহী এবং এ নিয়ে গবেষক দলও উৎসাহের সঙ্গে কাজ করছে।
/অ