দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে বুধবার কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলায় বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদাম, সরবরাহকেন্দ্র ও উৎপাদন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতি তিন থেকে চার দিন পরপর কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। বুধবার রাতেও একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা। হামলার পর বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে এদিন নিহতদের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। তার দাবি, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ তিন গুণ কমেছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ১১৫টি ড্রোন, ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা কোনো জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশে সাতটি সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব স্থাপনায় দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হতো।
কিয়েভের উপকণ্ঠ ব্রোভারির একটি যাত্রীবাহী রেলস্টেশনে আটজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান ভলোদিমির বিগুন জানান, ওই জেলায় পাঁচটি সরবরাহ গুদামেও হামলা হয়েছে, যার মধ্যে খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফোজির একটি গুদাম রয়েছে। তার অভিযোগ, রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকেই যুদ্ধ চলছে।
হামলায় ইউক্রেনের বৃহত্তম গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এপিসেন্ত্রের দুটি প্রধান সরবরাহকেন্দ্র ও একটি কারখানা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি একে ইউক্রেনের উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতার ওপর পরিকল্পিত হামলা বলে উল্লেখ করেছে।
খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিলপো জানিয়েছে, হামলায় তাদের অন্তত ছয় কর্মী নিহত হয়েছেন এবং দুটি বিতরণকেন্দ্রে আগুন লেগেছে।
এদিকে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা রোজেটকার সহপ্রতিষ্ঠাতা ইরিনা চেচোটকিনা জানান, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তার প্রতিষ্ঠানের বহু বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায়। তবে তিনি বলেন, ‘রোজেটকা এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় ১৩টি গুদাম, একটি উৎপাদন কারখানা, চারটি ব্যক্তিগত বাড়ি এবং কয়েক ডজন যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎসকি জানিয়েছেন, সরবরাহ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবে সরকার।
এদিকে ইউক্রেন সর্বাধুনিক প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের আরও সরবরাহ চেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ