দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে অগ্রগতির দাবি করলেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, গাজায় হামলা বন্ধে কোনো চুক্তি হয়নি। তার ভাষ্য, বর্তমানে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। কোহেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসে পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
দেইর আল-বালাহে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক দম্পতি নিহত এবং চারজন আহত হন। গাজা সিটিতে আরেকটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশুসহ দুজন নিহত হন।
খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় ভোরের দিকে একটি বাড়িতে হামলায় বাবা, মা ও তাদের নয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হন। এছাড়া উত্তর গাজার জাবালিয়ার কাছে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দেইর আল-বালাহে হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের এলিট ‘নুখবা’ ইউনিটের দুই কমান্ডার। গাজা সিটি ও জাবালিয়ার হামলাও ‘সামরিক সদস্যদের’ লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার ২৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেন, মিসরের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হওয়ায় অগ্রগতি হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি তদারকি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। তবে সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করে এবং পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করলে তবেই তারা অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করবে।
অন্যদিকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ না হলে বর্তমান অবস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।
এলি কোহেনও দাবি করেন, হামাস নিরস্ত্র হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তার মতে, সংগঠনটি অস্ত্র গোপন করে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করবে।
এদিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ দাহলান দাবি করেছেন, ট্রাম্পের জামাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/