দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলনের এক স্বেচ্ছাসেবক বেআইনিভাবে আটকের অভিযোগ তুলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। আইন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জুনায়েদের দাবি, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে আটক করে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
২৪ বছর বয়সী জুনায়েদ উত্তর ভারতের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত শিক্ষার্থী আন্দোলন শেষ হওয়ার একদিন আগে তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। তবে তার আবেদনের শুনানি এখনো হয়নি।
জুনায়েদের অভিযোগকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে সিজেপির নেতারা দাবি করেছেন, আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের লক্ষ্য করেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাব দেয়নি দিল্লি পুলিশ।
সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে পুনরায় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
জুনায়েদ জানান, জুন মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া আন্দোলনে তিনি প্রথমে এক দিনের জন্য যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ছয় সপ্তাহ ধরে আন্দোলনের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। তিনি আন্দোলনস্থলে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, কম্বল ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতেন।
তার ভাষ্য, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ দেখে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। বিশেষ করে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেদিন পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও গণআটক চালায়।
জুনায়েদের দাবি, আন্দোলন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে আন্দোলনে তার ভূমিকা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং থানায় নেওয়ার সময় চোখও বেঁধে রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া তার অভিযোগ, পুলিশ তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় এবং পরিবারের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তবে গাজিয়াবাদ পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শুধু তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
জুনায়েদ বলেন, আন্দোলনের সময় ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিষয় ছিল না। তবে আটকের পর তিনি ভাবতে শুরু করেন, তার মুসলিম পরিচয় তাকে ভিন্নভাবে দেখার কারণ হয়েছিল কি না। যদিও এ বিষয়ে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগের মুখে পড়েছে। তবে সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও জুনায়েদ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে নামলে তিনিও তাদের সঙ্গে থাকবেন। তার ভাষায়, ‘এটি বড় একটি লড়াইয়ের জন্য ছোট একটি ত্যাগ। আমি লড়াই থামাব না।’
সূত্র: বিবিসি
এমএস/