দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র সৌদি আরব ও ইসরায়েলের বিপরীতমুখী অবস্থান তার সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে পৃথক বৈঠকে সৌদি আরব সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানালেও ইসরায়েল ইরানের ওপর আরও চাপ বাড়ানো এবং প্রয়োজনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পক্ষে মত দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা পৌঁছে দেন। বার্তায় বলা হয়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন।
এর আগের দিন হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও চাপের মুখে পড়েছেন। অনেক রিপাবলিকান নেতা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসে বৃহৎ আকারের বিমান হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হলেও তিনি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ। মার্কিন প্রশাসনের আশা, এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হলে সেটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না আসা পর্যন্ত ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সমঝোতা ভঙ্গ করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের হত্যা করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বর্তমানে ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে, যা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরব মনে করছে, ইরান আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বের মূল্যায়ন, ইসরায়েল সংঘাত আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী, আর সৌদি আরব চায় দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হোক।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/