দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে হাজারো অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।
বৃহস্পতিবার সীমান্তে ব্যাপক চাপ তৈরি হলে পুলিশকে সহায়তা করতে সামরিক ইউনিট পাঠানো হয়।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিভিই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মরক্কোর দিক থেকে শত শত মানুষ সাঁতরে ও ভাসমান টিউব ব্যবহার করে সেউতায় ঢোকার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ স্থল সীমান্তের একটি ফটক ভেঙে শহরের ভেতরে প্রবেশ করে।
সেউতা সীমান্তের ওপারে মরক্কোর শহর ফনিদেকে বৃহস্পতিবার রাতে অভিবাসীদের ঠেকাতে জলকামান ব্যবহার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সেউতায় প্রবেশ করা এক অভিবাসী জাদিদ জাকারিয়া বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব কঠিন ছিল। পুলিশ আমাদের থামানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের ইচ্ছা ও দৃঢ় সংকল্পের কারণে আমরা এখানে আসতে পেরেছি।’
প্রবেশের সময় কয়েকজন অভিবাসীকে ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
এদিকে, উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দ্বিতীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল মেলিলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রকাশিত ভিডিওতে মরক্কো-মেলিলা সীমান্তের বেনি আনসার এলাকায় সংঘর্ষের চিত্র দেখা গেছে।
মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য ওমর নাজি জানান, সেখানে অন্তত তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সেখানে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মারা যাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, সেউতার নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করতে মূল ভূখণ্ড থেকে ২০০ জন বিশেষায়িত পুলিশ কর্মকর্তা ও ৬০ জন সেনা পাঠানো হয়েছে। তবে মেলিলায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
মরক্কোর সেউতা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণের একটি মহাসড়কে রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বহু তরুণ স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আশায় উত্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের সীমান্ত সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় মরক্কো ও সাব-সাহারা আফ্রিকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ, যাদের অনেকেই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক, সেউতায় প্রবেশ করেছিল।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সঙ্গে সেউতা সফর করবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতির কারণে সেউতার অনেক দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনরিক সেরানো বলেন, পুলিশ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে না—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছেন।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় আজ বিকেলে আমি দোকান খুলছি না। প্রথম কাজ হলো আমার ব্যবসা ও পরিবারকে রক্ষা করা।’
সেউতা ও মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার সঙ্গে থাকা একমাত্র স্থল সীমান্ত। উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য অঞ্চল দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।
সেউতার মেয়র হুয়ান হেসুস ভিভাস এর আগে ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার অভিবাসীবান্ধব নীতির জন্য পরিচিত। সম্প্রতি দেশটি প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছে। তবে দেশটির ডানপন্থি দলগুলো এর সমালোচনা করে বলছে, এতে আরও বেশি মানুষ স্পেনে আসতে উৎসাহিত হচ্ছে।
স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট চলতি মাসে এক রায়ে জানায়, সমুদ্রপথে সেউতা বা মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো যাবে না।
স্পেন সরকার বলছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ওই রায়কে কাজে লাগিয়ে অভিবাসীদের সীমান্ত পার হতে উৎসাহিত করছে।
সিভিল গার্ডের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়ছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গেছে।’
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে তারা মরক্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দেশটির শরণার্থী কমিশনের পরিচালক মরিসিও ভ্যালিয়েন্তে জানান, সেউতায় প্রবেশকারীদের মধ্যে মরক্কো ও সাব-সাহারা আফ্রিকার নাগরিকদের পাশাপাশি পরিবারও রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ