দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে একাধিক দাবানল একীভূত হয়ে বড় আকার ধারণ করায় দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদ্রিদের পশ্চিমে তিনটি দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল আগুনে রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতিকে মাদ্রিদ অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হিসেবে বর্ণনা করেছেন আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো। তার ভাষায়, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বাতাস এবং একাধিক আগুনের সম্মিলনে ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ তৈরি হয়েছে।
মাদ্রিদ অঞ্চলের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাই আগুন নেভানোর বদলে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাশের আভিলা প্রদেশের দাবানলও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দুটি দাবানল একীভূত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
এ পর্যন্ত মাদ্রিদ অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। আটটি পৌর এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকটি এলাকায় লকডাউন জারি রয়েছে।
সরকারি হিসাবে, মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আগুনের ছাই ও অঙ্গার বাতাসে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলের দাবানলে অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরোন্দের দাবানলকে ‘এক্সএক্সএল ফায়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। এতে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছে। অনেক বাসিন্দা ও পর্যটক নৌকায় করে এলাকা ত্যাগ করেছেন। দাবানল বর্তমানে বোর্দোর দিকে অগ্রসর হওয়ায় আরও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানান, দাবানলে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আগুন এখন নিজেই নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে এবং বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আরেকটি দাবানলে লঁদ অঞ্চলের বিসকারোস এলাকায় ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর, ক্যাম্পসাইট, বৃদ্ধাশ্রম ও গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তা চেয়েছে ফ্রান্স। এর আওতায় চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইউরোপীয় ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইউরোপে দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ গত দুই দশকের বার্ষিক গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/