দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের সামরিক গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সহায়তায় নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ৮০টির বেশি চীনা গবেষণাপত্র ও পেটেন্ট পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে চীনের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব বিশেষায়িত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা তৈরি করছে।
এ ক্ষেত্রে গবেষকরা ‘মডেল ডিস্টিলেশন’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এই পদ্ধতিতে একটি শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ফলাফল ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত ছোট ও নির্দিষ্ট কাজে উপযোগী মডেল তৈরি করা হয়, যা কম্পিউটিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা যায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনভিত্তিক জামেস্টাউন ফাউন্ডেশনের সংগৃহীত গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ও অন্যান্য সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মধ্যে এই পদ্ধতির ব্যবহার ব্যাপক।
গবেষণাপত্রগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায়, চীনের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের উৎস এবং মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর উপায় হিসেবে দেখছে।
তবে বিতর্কের মূল বিষয় মডেল ডিস্টিলেশন পদ্ধতি নয়, বরং অনুমতি ছাড়া তথ্য বা সক্ষমতা আহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল থেকে সক্ষমতা নেওয়ার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও মেধাস্বত্বের নিয়ম লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও দাবি করেছে, তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বিদেশি মডেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।
জামেস্টাউন ফাউন্ডেশনের গবেষক সানি চেউং বলেন, চীনা সামরিক বিজ্ঞানীরা পশ্চিমা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের যুক্তি তৈরির প্রক্রিয়া নিজেদের ছোট আকারের ব্যবস্থায় স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। তার মতে, সঠিক উত্তর শেখানো সহজ হলেও সেই উত্তরের পেছনের যুক্তি শেখানো অনেক বেশি কঠিন।
রয়টার্সের পর্যালোচনায় সামরিক সংশ্লিষ্ট আরও দুই ডজন গবেষণার উদাহরণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেইজিংয়ের একটি সামরিক গোয়েন্দা ও সাইবার যুদ্ধ ইউনিটের গবেষণাপত্রে ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৩.৫ ব্যবহার করে সামরিক সফটওয়্যার কোড বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকরা জানান, তৃতীয় পক্ষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা গোপন তথ্য ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই তারা জিপিটি-৩.৫ ব্যবহার করে সফটওয়্যার কোডের সারসংক্ষেপ তৈরি করেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে চীনের নিজস্ব একটি মডেল প্রশিক্ষণ দেন, যা সামরিক নেটওয়ার্কের ভেতরে পরিচালনা করা যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণেও বিদেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সহায়তা নেওয়ার নজির পাওয়া গেছে।
চীনের নর্থ ইউনিভার্সিটি অব চায়নার গবেষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য অ্যানথ্রপিকের ক্লদ ৩ হাইকু ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রশিক্ষণ তথ্য তৈরি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা চীন বা বেইজিং নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে ক্লদ ব্যবহারের বাণিজ্যিক অনুমতি দেয় না এবং নীতিমালা লঙ্ঘন শনাক্তে নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে।
এদিকে চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির একটি গবেষণায় ড্রোনে ব্যবহারের জন্য চিত্র বিশ্লেষণ মডেল ছোট করার ক্ষেত্রে মডেল ডিস্টিলেশন পদ্ধতির ব্যবহার দেখানো হয়েছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও ড্রোনের সরাসরি ভিডিও বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত কম্পিউটিং সুবিধার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে চীন কম সম্পদ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রযুক্তির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে মডেল ডিস্টিলেশনের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, ছোট আকারের মডেলগুলো মূল উন্নত মডেলের সব ধরনের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যাপিয়েনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ট্রেভর কোভারকো বলেন, ডিস্টিল করা মডেলকে কম খরচে স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা স্থানান্তর হিসেবে দেখা উচিত, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা হিসেবে নয়।
/অ