দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করতে ১০ থেকে ১৪ দিনের বিমান হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আকস্মিক হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড একে ‘শক্তিশালী জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামরিক কমান্ডকেন্দ্রসহ কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের কয়েকটি শহর এবং কেশম দ্বীপে হামলা হয়েছে। প্রণালিবেষ্টিত কেশম দ্বীপে তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আবাদান, শাদেগান, আরভান্দকেনার ও আহভাজ শহরের আশপাশের এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
রাতের হামলার পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা আগ্রাসনের জবাব দেবে। এদিকে জর্ডান বৃহস্পতিবার সকালে আরও পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দেন এবং আরও বড় ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে যুদ্ধ পরিচালনাকারী অ্যাডমিরাল কুপার এই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। তবে এমন পরিকল্পনা এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজন হওয়ায় সেগুলো শুধু মধ্যপ্রাচ্যে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব নয়।
একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করেছে। কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের ২ হাজার ৩৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা কয়েক মাসের মধ্যে কমে প্রায় ৭৫৯টিতে নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও চাপে পড়তে পারে এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য চীনের সঙ্গে সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয় এবং নতুন বিমান অভিযান যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গভীর সংঘাতে জড়িয়ে ফেলবে, যার ফলে ব্যয় বাড়বে এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প বর্তমানে আরও কঠোর অবস্থানে থাকলেও কী পরিমাণ জবাব দেওয়া হবে, তা এখনো বিবেচনা করছেন। অ্যাডমিরাল কুপারের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দ্রুত যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার কমানো যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধে ট্রাম্প বিরক্ত। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক এক বৈঠকেও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। আলোচনাকে উভয় পক্ষই খোলামেলা বলে বর্ণনা করেছে।
এদিকে ইরান সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মাধ্যমে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে। মঙ্গলবার রাতে জর্ডানে হামলা এবং চলতি মাসের শুরুতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাও এর মধ্যে রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের অস্ত্র ও রসদসংক্রান্ত স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
জোটটির দাবি, ওই হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন। যদিও সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান, দেশটির একটি পত্রিকা জানিয়েছে, ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর চার উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন।
ইরাক সরকার এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সব ধরনের পদক্ষেপের বিরোধী এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে হুমকির জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেবে না।
অন্যদিকে ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব হামলা ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই চালানো হয়েছে।
এছাড়া বুধবার মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস সংরক্ষণ জাহাজ এবং গ্রিসের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্ক টাইমস নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই ড্রোনগুলো ইরান থেকে ছোড়া হয়ে থাকতে পারে, যা অঞ্চলে দেশটির হামলার সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/অ