দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে আর্থিক, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
ওয়াশিংটনের দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত আইআরজিসির হয়ে অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে অভিযুক্ত মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দুর্বল করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জে হিলোটিন জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাংহাইভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, একটি রুশ এয়ার কার্গো সংস্থা এবং কয়েকজন জেনারেল সেলস এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। এ ধরনের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের তথ্যমতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বন্ধ হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের জন্য তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া তৃতীয় দেশের কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
মাহান এয়ার নিজেকে একটি বেসামরিক বিমান সংস্থা হিসেবে দাবি করলেও, আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিবহনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তবে বিমান সংস্থাটি এসব অভিযোগ বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ নীতির অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকার বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমা সংস্থাগুলোর অভিযোগ, আইআরজিসি সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অবকাঠামো, তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। এছাড়া ভুয়া কোম্পানি, চোরাচালান, ছায়া তেল বাণিজ্য এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
সুত্র-গালফ নিউজ
এমএম/