দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর তাদের ভূমিকা ও সক্ষমতা আবারও আলোচনায় এসেছে। মিত্র দুই দেশের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য এসব গোষ্ঠী দায়ী।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইরানের প্রভাব ইরাকে দ্রুত বাড়তে থাকে। সেই সময়ই তেহরানের আর্থিক ও সামরিক সহায়তায় একাধিক শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে।
বর্তমানে এসব গোষ্ঠী শুধু সামরিক শক্তিতেই নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাবশালী। তারা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এবং সংসদ ও সরকারেও প্রতিনিধিত্ব করছে। অস্ত্র ও জনবলের দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রে তারা জাতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
ইরাকের প্রায় ১০টি কট্টরপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত ‘ইরাকে ইসলামি প্রতিরোধ’ জোটে প্রায় ৫০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে এই জোট ইসরায়েল এবং ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাক সরকারকে এসব গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতাইব হিজবুল্লাহ। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি আবু মাহদি আল-মুহান্দিস এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২০ সালে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় তিনি এবং ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহত হন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাতাইব হিজবুল্লাহ সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনায় প্রাণঘাতী হামলার জন্য পরিচিতি পায়। গোষ্ঠীটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বলে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য। তাদের কাছে ড্রোন, রকেট এবং স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় গোষ্ঠীটির ঘাঁটি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও সরবরাহ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গবেষণার কাজে ইরাক সফরে গিয়ে অপহৃত ইসরায়েলি-রুশ গবেষক এলিজাবেথ সুরকভকে অপহরণের দায়ও কাতাইব হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে রয়েছে। গোষ্ঠীটি উচ্চপ্রোফাইল অপহরণের ঘটনাও স্বীকার করেছে।
আরেকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ‘আসাইব আহল আল-হক’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন কায়েস আল-খাজালি। ১৯৭৪ সালে বাগদাদের সদর সিটিতে জন্ম নেওয়া খাজালি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর আলোচনায় আসেন। ২০০৭ সালে কারবালায় মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হন। ওই হামলায় পাঁচ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান।
খাজালি প্রথমে মোকতাদা আল-সদরের মাহদি বাহিনীর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। পরে ২০০৬ সালে নিজের সশস্ত্র গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও অংশ নেন তিনি।
২০২০ সালে খাজালি বলেন, ইসলামিক স্টেট পরাজিত হওয়ার পর ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েনের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা দেশ না ছাড়লে দখলদার বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে গাজা যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় তিনি সরাসরি অংশ নেননি। একই সময়ে তিনি ইরাকের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০০৬-০৭ সালের গৃহযুদ্ধের সময় হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তার গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
/অ