দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাসদস্যদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করছে বলে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনার কাছ থেকে শিগগিরই মোবাইল ফোন জমা নেওয়া হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
২৮ জুলাই সেনাদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, সংবাদ প্রতিবেদন, সাংবাদিকদের প্রকাশিত তথ্য এবং সেনাসদস্যদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও দেখে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হামলার সফলতা বা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করতে পারছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘উন্মুক্ত তথ্যের এই ব্যবহার শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক মানুষের জীবনের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
চিঠিতে তিনি সেনাসদস্যদের পরিচালনাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানালেও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেননি।
তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া জর্ডানে অবস্থানরত কিছু সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পরিচালনাগত নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, এটি মূলত সেনাসদস্যদের পরিচালনাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি সাধারণ বার্তা। অ্যাডমিরাল কুপার এর আগেও বিভিন্ন সময় এ ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রাণঘাতী হামলার সময় মার্কিন সেনারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। ওই ভিডিওটি একজন সেনাসদস্য ক্যামেরাযুক্ত স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে ধারণ করেছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন কুপার।
তার ভাষ্য, ভিডিওটিতে কোথায় এবং কীভাবে সেনাসদস্যরা বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এমন তথ্য ইরানের জন্য হামলার ফলাফল মূল্যায়নে সহায়ক হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাহিনীর বৈদ্যুতিক প্রতিবন্ধকতা ও অন্যান্য সামরিক কৌশলের কারণে সাধারণ অবস্থায় ইরানের পক্ষে হামলার প্রকৃত ফল জানা কঠিন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য ও ভিডিও তাদের জন্য বিনা খরচে যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ করে দিচ্ছে। এর ফলে একই স্থানে আরও ভয়াবহ দ্বিতীয় দফা হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন সদস্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম ইউনিটভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ সংবেদনশীল অভিযানে অনেক ক্ষেত্রেই ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকে। তবে নতুন করে মোবাইল ফোন জব্দের সম্ভাবনায় সেনাসদস্যদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্সের সূত্রগুলো।
সূত্র: রয়টার্স
/অ