দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে মুসলিম নেতা আজম খানের প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী মোহাম্মদ আলী জওহরের নামে। আজম খান ২০০৩ সালে ‘মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর তত্ত্বাবধানে ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে।
গত ১৫ জুলাই রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবন প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ৪০টি ভবনের মধ্যে মাত্র দুটি বৈধ অনুমোদন নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এ কারণে ৫ আগস্টের মধ্যে বাকি ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তা না হলে প্রশাসন নিজেই ভাঙার কাজ সম্পন্ন করে ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করবে বলে জানায়।
সোমবার রাজ্য প্রশাসন ওই আদেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও ভাঙার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরউদ্দিন জানান, স্থগিতাদেশের অর্থ শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাঙার কার্যক্রম হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদালতের কাছে পুরো ভাঙার আদেশ বাতিলের আবেদন করেছে।
প্রায় ২৫০ একর আয়তনের এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ১৫ জুলাই থেকে শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের একজন ওসমা তাইয়্যব বলেন, ‘যদি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন, তাহলে উত্তর প্রদেশ সরকারও কেন বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে না?’
আজম খান উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং দীর্ঘদিন রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে ২০১৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে জমি দখল, জালিয়াতি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যসহ প্রায় ১০০টি মামলা করা হয়, যার অনেকগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে। তার সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। যদিও রাজ্য সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য জাভেদ আলী খান অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার উদ্যোগ রাজনৈতিক প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী দাবি করেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী নারী। পঞ্চম বর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইকরা বলেন, নিরাপদ পরিবেশের কারণে তার পরিবার এই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে দেওয়া হলে অনেক মুসলিম ছাত্রী আর উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থী হিন্দু। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী চাঁদনি দিবাকর বলেন, সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে কখনো নিজেকে ভিন্ন মনে হয়নি।
উপাচার্য জহিরউদ্দিন দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ওই এলাকা রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় ছিল না। ফলে তখন এই অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। এখন অতীতের নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করা সংবিধানপ্রদত্ত শিক্ষার অধিকারের পরিপন্থী।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আন্দোলন বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছে। তবে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙার ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায় তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিযান কেবল অবৈধ দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে।
/অ