দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুইটি মসজিদ, একাধিক গাড়ি এবং কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।
সর্বশেষ এ হামলার দুই দিন আগে তাল গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ওই ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
এরপর থেকেই পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের কট্টর ডানপন্থি অংশের উৎসাহে উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে।
ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে পশ্চিম তীরের দুটি গ্রামে হামলা চালানো হয়। এ সময় একাধিক গাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুট এবং দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লেখা হয়।
কুসরা গ্রামের মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি জানান, নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ লেখা গ্রাফিতিও এঁকে যায়।
এ ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুসরায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করবে।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৃথক আরেক ঘটনায় কৌর গ্রামেও একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। সেখানেও দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছে।
শুক্রবারের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর থেকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রামে বসতিস্থাপনকারীদের একাধিক হামলার অভিযোগ তুলেছে ফিলিস্তিনিরা।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’-এর অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।
তাল গ্রামের ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা সত্ত্বেও এ প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগেই পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়ছিল। তবে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা আরও তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ১ হাজার ১১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
একই সময়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি হামলা বা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৪১ জন ইসরায়েলি—যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন—নিহত হয়েছেন।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে সেখানে শত শত ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। বর্তমানে এসব বসতিতে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা গাজা উপত্যকাসহ এই অঞ্চলকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/